ইমোশনালী ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে ফেইসবুকের পেইজে (অনুসন্ধানী প্রতিবেদন)

কেমন আছেন সবাই ? কয়েক দিন আগে লিখে ছিলাম কিভাবে অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার নামে কিভাবে মানুষের সাথে প্রতারনা করা হচ্ছে ।

আজ লিখবো ফেসবুকের পেইজে  কিভাবে মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করছে !!

আমরা হয়তো আবেগে পড়ে তাদের ভক্ত হয়ে যাই বা তাদের অন্ধ বিশ্বাস করি , পাঠাতে থাকি হাজার হাজার টাকার এসএমএস !

একটু চোখ কান খোলা রাখলেই এসব অনলাইনের সকল জালিয়াতি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব, ধীরে ধীরে বিস্তারিত লিখবো ।

সাধারন মানুষের ইমোশন নিয়ে অনলাইনে ইদানিং খুব খেলা করা হচ্ছে বিভিন্ন  বিভিন্ন পেইজে !
এফএম রেডিও খুব একটা শোনা হয়না বাংলিশ ব্যবহারের কারনে, অনেক আগে শুনতাম তখন আমি খুব ভক্ত ছিলাম RJ Kebria সংবাদ পাঠের , খুব শ্রদ্ধা করতাম তাহাকে । শেষ পাঁচ বৎসরে কবে এফএম রেডিও শুনেছি মনে নেই ।
কিন্তু অনলাইনে তাহার বিশাল একটি বিষয় আজ আমার নজরে এল Sumon FX এর মাধ্যমে, হ্যালো ৮৯২০ জীবনের গল্প অনুষ্ঠানে মেঘলা থেকে মেঘ মানে মেয়ে থেকে ছেলে হয়েছে ।

৩০ শে এপ্রিল রাতে জীবনের গল্প অনুষ্ঠানে মেঘলা থেকে মেঘ নামের একজনের সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয় , মেয়ে থেকে ছেলে হয়েছে এমন গল্প অনেক শুনেছি নিজের চোখে কোন দিন দেখেনি , আল্লাহর ইচ্ছায় অনেক কিছু হতে পারে  অবিশ্বাসের কিছু নাই ।

জীবনের গল্প অনুষ্ঠানের শুরুতে এবিসি রেডিও আরজে কিবরিয়া এই স্ট্যাটাস দেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে ২৩,৩৬১ লাইক,২৯২০ কমেন্টস ও ১৯৮ শেয়ার এখানে বুঝা যাচ্ছে মানুষের আবেগ এখানে কতটা কাজ করেছে !

আমি যদি অনুষ্ঠান শুনতাম তবে আমি তাকে দেখতে এমন উদগ্রীব হতাম , যা অন্য দর্শক করেছে

কিছুক্ষন পরে মেয়ে থেকে ছেলে হয়ে যাওয়া ছবি পোস্ট করা হয় ।  যেখানে দেখা যাচ্ছে ৩০,৯১৭ লাইক, ৩২৮৭ শেয়ার ও ১২,৬১৭ কমেন্টস যাদের সবাইকে বোকা বানানো হয়েছে বা আবেগ নিয়ে খেলা হয়েছে ।

পরবর্তীতে Sumon FX পেইজে চ্যালেঞ্জ করে কমেন্টস করে এই মেয়ে ছেলে হইয়ে যাওয়া ছবি এটা নয়, সাথে সাথে তার কমেন্টস মুছে দিয়ে তাকে পেইজ থেকে ব্যান করা হয় ।

আরজে কিবরিয়ার আরেকটা স্ট্যাটাস দিয়ে বলা হয় নিম্নরুপঃ

দৃষ্টি আকর্ষনঃ মেঘলা র ছবি নিয়ে দু একটি ফেক আইডি শ্রোতাদের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তাদের জন্যে বলছি, মেঘলার এই মেয়েবেলার ছবি তিন বছর আগের। মেঘলার কথা অনুযায়ী তার এক চাচাত ভাই এই ছবি দিয়ে একটি ফেসবুকে ফেক আইডি খুলেছিলো। আমরা মেঘলার আরো কিছু ছবি ফেসবুকে খুব শীঘ্রই দিয়ে দিব। তবে এসব হীন ততপরতা হ্যালো ৮৯২০ র জন্যে নতুন কিছু নয়। অতীতে ও হয়েছে। হ্যালো ৮৯২০ র যারা শ্রোতা, তারা নিশ্চই ব্যাপারটি বোঝেন যে কারা এই ধরনের কাজ করতে পারে। ধন্যবাদ।

কিন্তু ২ দিন পার হয়ে গেলেও কিবরিয়া সাহেব আর কোন ছবি দিতে পারেন নাই,

তারপর sumon সাহেবের এই পোস্ট আমার নজরে আসে

ছবিটি দিয়ে গুগলে অনুসন্ধান চালাই ছবিটি গুগলিং করে দেখলাম ছবিটি ভারতীয় কোন মেয়ের একেক সাইটে একেক নামে দেয়া হয়েছে কিন্তু মেঘলা নামে কোথাও নেই !
গুগল বেশ কয়েকটা পোস্টে ছবিটি দেখাচ্ছে, ফেসবুকেও দেখা যাচ্ছে । যা ২০১৩ সালে জুনে আপলোড করা।

প্রমান লিংক>>> http://goo.gl/CsEo6s
http://www.fb.com/madhavi.pawar.9699

তারপর বিষয়টা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেই সেখানে আলোচনার ঝড় উঠে, অবস্থা বেগতিক দেখে কিবরিয়া ভাই ছবি ফেসবুকের মুল পেইজ থেকে হিড করে দেয় ,

আরজে কিবরিয়া ভাই তার পেইজে ভক্তদের কথা দিলেও মেয়ে থেকে ছেলে হয়ে যাওয়া ব্যাক্তির আগের আর কোন ছবি আমাদের দেখাতে পারেন নাই ।

তাকে  ছবি প্রত্যাহার করার আহবান করছি । কিন্তু তিনি তা করেন নাই !

Rajkumari Nodi ও Sumon এর সহযোগিতায় ঐ মেয়ের আরো কিছু ছবি গুগলে ও বিভিন্ন সাইট থেকে পাওয়া গেছে । যেখানে বিভিন্ন নামে দেখা যাচ্ছে কোথাও মেঘলা নাম নাই !

যা আপনাদের সামনে দিচ্ছি যেন মানুষকে আর কেউ ঠকাতে না পারে তাই ছবি গুলো দেখে রাখুন সবাই ।

গুগল সিমিলার ইমেজ লিংকঃ http://goo.gl/5PbhI8

গুগল সিমিলার ইমেজ লিংকঃ http://goo.gl/ej2v9o

আমি অবাক হয়েছি এই প্রযুক্তির যুগে ঐ মানুষ গুলোকে আমরা কতটুকু বিশ্বাস করি ও আবেগে আত্মহারা হয়ে যাই ! গতকাল প্রমান দেখানোর পর কিবরিয়া ভাই যেখানে পেইজ থেকে ছবি হিড করে দিলো, তারপরে তার কিছু অন্ধভক্ত আমাদের আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেছে , তাই সকলের কাছে অনুরোধ প্রযুক্তির যুগে ইমোশনালী ব্ল্যাকমেইল হবার আগে সবাই একটু যাচাই বাছাই করে নিবেন ,

গুগল হতে পারে আপনার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ,সর্বজান্তা গুগলকে জিজ্ঞাসা করলে অনেক উত্তর দিয়ে দিতে পারবে ।

অনুরোধ করবোফেইসবুকের বিভিন্ন পেইজ অ্যাডমিন দের ব্যবসার প্রসারের জন্য লাইক পাবার জন্য এত নিচে নামা উচিৎ নয়  !

০২/০৫/২০১৪ ইং তারিখে সকাল ১১ টায় ছবি গুলো টেকটিউনসে দেয়া হল , সবাই খেয়াল রাখবেন এই ছবি গুলো যেন আবার ঐ পেইজে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল না করা হয় ।

আরজে কিবরিয়ার মত মানুষকে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আগামীতে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে ,আপনি একজন শ্রদ্ধেয় মানুষ তাই শ্রদ্ধার আসনে সবসময় থাকে এটাই প্রত্যাশা ।

আর কিবরিয়া ভাই আপনি ওনার যে চাচাতো ভাইয়ের কথা বললেন তার নাম ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার দেন , আমরা তাকে জিজ্ঞেস করবো কেন ও কবে সে ফেক আইডি করেছে । এবং তার চাচাতো ভাই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন কিনা ?

আশা করি আপনার স্বচ্ছতার জন্য আমাদের তা দিবেন ও ঐ মেয়ের আরও কিছু ছবি দিবেন ।  যা দিয়ে তাদের এলাকার লোকের থেকে আমরা প্রমান করতে পারবো এই ছবি সত্য ও এই মেয়ে থেকে ছেলে হয়েছে ।

ফেসবুক থেকে কিছু মন্তব্য হুবুহু তুলে ধরা হলোঃ

Mahfuj Rahman বলেনঃ

পরিবর্তনটা এতোটাই বেশি ছিল যে, ওটা গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠতো পারেনি। তাছাড়া ছবিটা যে আগেই ফেবুতে আপলোড করা হয়েছিল, যে কারণেই হোক সেটা অনুষ্ঠানের কোন অংশেই বলা হয়নি। তাই এবিসি রেডিও কতৃপক্ষের উচিত বিষয়টা আরো খোলাসা করা এবং অবশ্যই সেটা হতে হবে গ্রহণযোগ্য।

Sujon Miah বলেনঃ

আমি বুজলামনা কিবরিয়া প্রমাণ ছাড়াই অনুষ্ঠান শুরু করল কেনো
বোঝাইতো যায় এটার একটা চেলেনজ হবেই ।

Sohel Rana বলেনঃ 

সবই ঠিকই আছে কিন্তু ছবির এই কয়েকদিনে চেহারার এত পরিবর্তন হয় কি করে। মেঘলার মুখাকৃতি গোলাকার + গায়ের রঙ অনেক ফর্সা অন্য দিকে মেঘ এর মুখাকৃতি লম্বাটে। দুটো ফেচের সাথে কোনো মিলই নেই। সন্দেহটা আমার মত হাজার মানুষের। মানছি মেয়ে থেকে ছেলে হয়েছে কিন্তু ঐ ছবিটা ওর না। আগে আমি কোথায় যেন ঐমেয়ের ছবিটা ফেচবুকের প্রোফাইল পিকচারে দেখেছী। যদি সামনে কখনো বাধে তাহলে কিবরিয়া ভাই আপনাকে দেখাবো।

Farish Ahmed বলেনঃ

কিবরিয়া সাহেব নিজেকে অনেক চালাক মনে করছেন, এটা কিন্তু ঠিক না। আপনি আমাকে ব্লক করেছেন কেন? জানতে পারি। আপনি আমাদের ইনোসেন্স নিয়ে খেলছেন। বর্ষার ঘটনা পর্যন্ত সব কিছু ঠিক ঠাক ছিল। এরপর আপনার প্রোগাম জনপ্রিয় রাখার জন্য আপনি অনেক সময় অনেক ফন্দি ফিকির এটেছেন। ছেলে মানুষী করেছেন। আমরা সাধারন শ্রোতা মেঘ এর ঘটনা কে অস্বীকার করিনাই। আমরা অস্বীকার করছি ছবিটা নিয়ে। আপনি একদুইটা ছবি দিয়ে সত্য প্রমাণ করতে পারবেননা। ছবিটা নিয়ে আমাদের মনে যে সন্দেহ তা কিন্তু কোন প্রযুক্তিজ্ঞান হীন মানুষের নয়, এটা মনে রাখবেন। আপনি যদি ভালই হবেন আমার যেই প্রোফাইল থেকে প্রথম বিষয়টা দর্শকদের জানালাম সেটা কেন ব্লক করা হলো, ভদ্রলোক দয়া করে বলবেন। কোন যাচাই বাছাই না করে যাকে ইচ্ছা তাকে নিয়ে অনুষ্ঠান করলে আমরা ছেড়ে কথা বলব এতটা বোকা আমরা নই। আরে বোকা দুইটা ছবি পাশাপাশি রেখে দেখলেও বোঝা যায় কতটা বোগাস!! মানুষের চোখ কি চেঞ্জ হয়ে যায়, অাল্লাহ চাইলে পারে তাই বলে চোখ পর্যন্ত চেঞ্জ করে দেয় আল্লাহ। মানুষকে বোকা বানানোর ব্যবসা বন্ধ করেন। লাইক না দিলে ছবি আপলোড হবে না-কত বড় বেশ্যা মার্কা কথা। এক কাজ করেন আমরা আপনার নাম্বারে ফ্লেক্সি করি তার পর আপনি অনুষ্ঠানে আইসেন। ধান্ধামির জায়গা পায় না।

এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সবাই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন ইমোশনালী ব্ল্যাকমেইল থেকে সবাইকে বাঁচাবেন এটাই প্রত্যাশা

আমি একজন ছাত্র । প্রযুক্তিকে খুব ভালোবাসি । তাই পড়ালেখার ব্যস্ততার মাঝেও চাই কিছু শেয়ার করতে ,মানুষকে কিছু জানাতে । আসলে আমার দ্বারা যদি কারো উপকার হয় তাহলে আমার যে কি আনন্দ লাগে তা বলে বুজাতে পারবো না । আমার মনে হয় সবারই এই রকম লাগে । তাই আজ থেকে আপনিও শুরু করে দিন ব্লগিং । আর কোন সহযোগিতা লাগলে অবশ্যয় আমাকে নক করবেন । আমার পোস্টগুলি কেমন লাগল তা অবশ্যয় কমেন্ট এ জানাবেন ।

মন্তব্যগুলি

মন্তব্যগুলি

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (1 votes, average: 1.00 out of 5)
Loading...