সিরিজ ‘আত্মাহুতি’ দিল বাংলাদেশ

প্রথমে ২-০, পরে ২-১, সর্বশেষ ২-২। ওয়ালটন বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ এভাবেই আত্মহুতি দেয় বাংলাদেশ! অযথা পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে জিম্বাবুয়ের মত ‘দূর্বল’ প্রতিপক্ষের কাছেও সিরিজ হারের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশ যেখানে এখনো অনভিজ্ঞ সেখানে মূল ক্রিকেটারদের বসিয়ে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারে ক্রিকেট প্রেমিরা। নিজেদের ৫০তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিও যে এভাবে হারবে বাংলাদেশ তা হয়ত কেউই চিন্তা করতে পারেনি।

শুক্রবার সিরিজের শেষ ম্যাচে ১৮ রানের হার চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে টি-টোয়েন্টি খেলাটা এখনো অনেক কঠিন মাশরাফি-সাকিবদের জন্যে। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ শেষ দুই ম্যাচে হেরে সিরিজটি বিসর্জনই দেয়নি বরং এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বড়সড় ধাক্কাও খেয়েছে। সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে পেতে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা তার কতুটুক পেয়েছে বাংলাদেশ, সেটা মিলিয়ন ডলারের এক প্রশ্ন?

তৃতীয় ম্যাচে তামিমকে বিশ্রামে রাখার খেসারত দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে চতুর্থ ম্যাচে তাকে নিয়েও কোনো উপকার পায়নি। বরং ১৮১ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে তামিম যেভাবে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন তা এক কথায় ‘আত্মহুতি’। তামিমের আগে এক চার ও এক ছক্কায় সৌম্য দ্রুত ১১ রান তুলে প্রতিরোধের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই একই ওভারের সৌম্যর বিদায়ঘন্টা বেজে উঠে। তাদের দুজনের বিদায়ের পর প্রথম তিন ম্যাচে আলো ছড়ান সাব্বির হাওয়ায় ভাসানো বল খেলতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন। দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে সাকিব এক বাউন্ডারি দিয়ে ইনিংসটি সাজিয়ে বিদায় নেন। ১৭ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশের সামনে ১৮১ রান আকাশচুম্বি টার্গেট।

সেখান থেকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েস ২৫ বলে ৩৬ রান করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকেনি তাদের জুটি। বিপিএল মাতানো ইমরুল ফিরে যান ১৮ রানে। তবে মাহমুদউল্লাহ ছিলেন অবিচল। জিম্বাবুয়ের বোলারদের একহাতে সামলে নেন এ অলরাউন্ডার। তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি হাফসেঞ্চুরি। তার সঙ্গে নুরুল হাসান সোহানও প্রতিরোধ গড়ে। কিন্তু দুজনের দ্রুত বিদায়ে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা। মাহমুদউল্লাহ ৪১ বলে করেন ৫৪ রান। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ২টি ছয়ের মার। নুরুল হাসান ১ বাউন্ডারিতে করেন ১৫ রান। শেষ প্রান্তে মাশরাফির ১২ বলে ২২, আবু হায়দারের ১০ বলে ১৪ ও আরাফাত সানীর ৫ বলে ১০ রান বাংলাদেশের পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র।

এর আগে টসে জিতে জিম্বাবুয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে হ্যামিলটন মাসাকাদজার অপরাজিত ৯৩ রানে ১৮০ রানের পুঁজি পায়। মাসাকাদজা ৫৮ বলে ৮ চার ও ৫ বাউন্ডারিতে ৯৩ রান করেন। মুতমবামি ৩২ ও ওয়ালার ৩৬ রান করেন দ্রুততম সময়ে। ওভারপ্রতি ৯ গড়ে রান তুললেও শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলাররা কিছুটা দাপট দেখায়। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ১টি করে উইকেট নেন মাশরাফি, আবু হায়দার, তাসকিন আহমেদ ও সাকিব আল হাসান। সাকিব ম্যাচে ১ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি বোলার হিসেবে ৫০টি উইকেট নেওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়েন।

ব্যাট-বলে ব্যর্থ হয়ে টাইগাররা এখান থেকে পথ খুঁজতে বের হবে। এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের আগে খুলনাতেই ৩১ তারিখ পর্যন্ত ক্যাম্প করবে বাংলাদেশ। শনিবার সকালে মনোবিদের স্মরণাপন্ন হচ্ছেন এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ডাক পাওয়া ২৫ ক্রিকেটার।

1

No Responses

Write a response