সারা দেশে চলছে নকল ওষুধের রমরমা বাণিজ্য

সারা দেশে চলছে নকল ওষুধের রমরমা বাণিজ্যদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরনগরীতে নকল ওষুধ বিকিকিনির রমরমা বাণিজ্য চলছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে নকল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন।

মানুষের জীবনকে পুঁজি করে এসব অসাধু ব্যবসায়ী বনে যাচ্ছে কোটিপতি। তাদের রয়েছে একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষ এমনকি প্রশাসনও।

বন্দরনগরীতে ওষুধের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কোতোয়ালি থানার হাজারী গলি। এ গলিতে রয়েছে প্রায় সাড়ে চারশ ওষুধের দোকান। এসব দোকানে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ওষুধ বেচাকেনা হয়। এখান থেকেই চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলা এবং মহানগরীর সব ওষুধের দোকানে পাইকারি ওষুধ সরবরাহ হয়ে থাকে। হাজারী গলির এই কোটি কোটি টাকার ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অনৈতিক বাণিজ্যের পশরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাজারী গলিতে বৈধ ওষুধের গুদামের পাশাপাশি রয়েছে নিম্নমান ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধের গুদাম। এসব ওষুধ বিক্রির জন্য আছে পঞ্চাশ জনের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্যের দায়িত্ব থাকে প্রশাসনের সঙ্গে লিঁয়াজো করে অভিযানের গোপন খবর জেনে নেওয়া। ভ্রাম্যমাণ আদালত কিংবা কোন ধরনের অভিযান চললেই দেখা যায় তাদের দক্ষতা। তারা ফাঁস করে দেয় অভিযানের খবর। তখন হাজারী গলির দৃশ্য পাল্টে যায়। হঠাৎ করেই দেখা যায় প্রায় সব দোকান বন্ধ। বিপাকে পড়েন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেটসহ অন্যরা।

রেজিষ্ট্রেশনবিহীন কোম্পানির ওষুধ ও অনুমোদনহীন বিদেশি ওষুধ দেদার বিক্রি হলেও সে কথা স্বীকার করেন না কেউ।

বুধবার আকস্মিকভাবে হাজারি গলিতে ওষুধের মার্কেটে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু অভিযানকালে দেখা যায় ব্যতিক্রম দৃশ্য। ম্যাজিস্ট্রেট আসার আগেই বেশিরভাগ দোকান বন্ধ হয়ে যায়।

এরপরও দিনভর অভিযানে খোলা থাকা কয়েকটি দোকানে মিলেছে মেয়াদ উত্তীর্ণ ও নকল ওষুধের সন্ধান। রেজিষ্ট্রেশন বিহীন বিদেশি ওষুধ রাখার দায়ে তিন দোকান মালিককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদেরকে জরিমানাও করা হয়। সিলগালা করে দেওয়া হয় জ্যোতি ফার্মেসি নামের একটি দোকান। জেলা প্রশাসন, র‌্যাব ও ওষুধ প্রশাসনের যৌথ এ অভিযানে হাজারী গলির ২০ থেকে ২৫টি দোকানে তল্লাশি চালানো হয়।

জ্যোতি ফার্মেসির মালিক রুপেশ বিশ্বাসকে ১৫ দিনের এবং দেশ মেডিকোর মালিক সুভাষ চৌধুরী ও ইজি ওয়ান ফার্মেসির মালিক সৈকত চৌধুরীকে ৫ দিন করে কারাদ- দেওয়া হয়। এছাড়া পাঁচ দোকান মিলে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রাকিবুল হাসান।

তবে শুধু সাজা দিয়েই এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা যাবে না বলে মনে করেন মোবাইল কোর্টের ম্যাজিষ্ট্রেট রাকিবুল হাসান। রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, ‘সাজাটা মূল বিষয় না, যারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে আমরা সাজা দিচ্ছি। অনিয়ম ও ভেজাল ওষুধ বিক্রির দায়ে যে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে সে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাজারে ওষুধ বিক্রি করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে।’

চট্টগ্রাম কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির সভাপতি এসকে সিকদার বলেন, ‘একসময় বিদেশি রেজিষ্ট্রেশনবিহীন ওষুধের চাহিদা ছিল চট্টগ্রামের বাজারে। তবে বর্তমানে বিদেশি ওষুধের তেমন চাহিদা নেই। হাজারী গলিতে বাংলাদেশি ওষুধ ছাড়া নকল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ কোন ওষুধ ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন না।’

প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ইবনে আলী জানান, নকল ওষুধের সঙ্গে এখানকার সকল ব্যবসায়ী জড়িত নয়। অল্প কিছু ব্যবসায়ী এটার সঙ্গে জড়িত। র‌্যাব পুলিশের কিছুদিনের নীরবতা এটা বাড়িয়ে তুলেছে। এখানে যারা অবৈধ ওষুধের ব্যবসা করছে তাদেরকে আমরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। আশা করি খুব শিগগিরই আমরা এসব ব্যবসায়ীদের নির্মূল করতে পারব।

সোর্সঃ ইন্টারনেট

No Responses

Write a response