যে কারণে মাছ-গোশতের পর দুধ-দই খাবেন না

91926_diet

 ​

একদিকে জাঙ্ক ফুড, অন্য দিকে ডায়েটিং, এই দুইয়ের মাঝে পড়ে বেড়ে চলেছে অ্যানিমিয়া রোগীর সংখ্যা। ঘরের ডাল-ভাত খেতে যেন ভুলেই গেছে মানুষ। ওজন কমাতে খাচ্ছেন মিল সাপলিমেন্ট আর রিল্যাক্স করতে জাঙ্ক ফুড। দিনান্তে একবার হয়তো ঘরে খাওয়া, তাও সুষম খাবার নয়। ফলে দেখতে মোটাসোটা মানুষের অন্দরেও বাসা বাঁধছে এক বিশেষ ধরনের রক্তাল্পতার বীজ, আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া। একটু নিয়ম মেনে খেলে ও সঠিক খাবার খেলে যার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায় সহজেই।

 

খাওয়ার নিয়ম

 

খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে-পরে চা-কফি-কোলা খাবেন না। এরা খাবারের আয়রন শরীরে অ্যাবসর্ভ হতে দেয় না।

 

মূল খাবার খাওয়ার পর ফল খান। ফলে ভিটামিন সি খাবারে যে আয়রন আছে তা শরীরে শোষিত হতে সাহায্য করে।

 

ভাত খাওয়ার সময় লেবু খাওয়াও এক একই কারণে উপযোগী।

 

আয়রন ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার একসঙ্গে খেলে কোনোটাই ঠিকভাবে পাবে না শরীর। যেমন মাছ-গোশত খাওয়ার পর দুধ, দই বা দুধের কোনো খাবার খাওয়া উচিত নয়।

 

ইসবগুল জাতীয় বাল্ক ল্যাক্সেটিভ খান খাবার খাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক আগে বা পরে।

 

জাঙ্ক ফুড সপ্তাহে এক-আধবারের বেশি নয়।

 

দিনে অন্তত দু-বার ঘরে বানানো টাটকা সুষম খাবার খান।

 

দুপুরে চেষ্টা করুন বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে যেতে।

 

দিনের একটা খাবার ফল, দই, রায়তা, এ সব দিয়ে সারার চেষ্টা করুন।

 

রাত্রে ঘরে ফিরে, শুতে যাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক আগে ঘরে বানানো খাবার খান পেটভরে।

 

অনেকে দুপুরে পেটভরে খেয়ে রাত্রে হালকা খাবার খান। তারা সে রকমই করবেন।

 

কী খাবেন

 

আমিষ খেলে তো কোনো চিন্তাই নেই। রেড মিট, মাছ বিশেষ করে কুচো চিংড়ি, ডিম, মেটে ইত্যাদিতে রয়েছে হিম-আয়রন, যা সহজে শরীরের কাজে লাগতে পারে। আর নিরামিষ খাবারে যেমন, দুধ ও দুধে তৈরি খাবার, সবুজ-শাক-সবজি, মুসুর ও অন্যান্য ডাল, বিন, পাস্তা, ফল, বাদাম, ফর্টিফায়েড ব্রেকফাস্ট সিরিয়ালে থাকে নন-হিম আয়রন, যা সহজে শরীরে শোষিত হতে পারে না। তবে সঙ্গে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন, লেবু, কমলা, আমলকি ইত্যাদি খেলে শোষণের হার বাড়ে। নিরামিষাসীদের মধ্যে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ সে জন্যই একটু বেশি।

 

খাবারের মেনু

 

ব্রেকফাস্টে সব রকম সবজি দিয়ে বানানো খিচুরির সঙ্গে একটা ফল, দুধ দিয়ে ওট বা কর্ণফ্লেক্সের সঙ্গে ডিম, টোস্ট-ডিম/ছানা-ফল, রুটি-সবজি-ছানা/ডিম-ফল, এই জাতীয় খাবার বেশ পেট ভরে খান। খাওয়ার ঠিক পর চা-কফি না খাওয়াই ভালো, আগেই বলেছি। মিড মর্নিংয়ে ফল বা ছানা খেতে পারেন।

 

রেডমিট আয়রণে ঠাসা হলেও সপ্তাহে এক-আধ দিনের বেশি না খাওয়াই ভালো। মাছ বা ডিম বরং চলতে পারে নিয়মিত৷ বিকেলে ছোলা-বাদাম-পাস্তা ইত্যাদি খেতে পারলে খুবই ভালো। তবে তার সঙ্গে আবার চা-কফি-কোলা খেয়ে বসবেন না।

 

অ্যানিমিয়া হলে

 

ডাক্তারের পরামর্শ মতো বেশ কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা করে বুঝে নিতে হবে রোগের কারণ। আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া হলে ভালো খাওয়া-দাওয়ায় সমস্যা মিটবে না মনে হলে সাপলিমেন্ট দেবেন ডাক্তার। অল্প খাবার খেয়ে ওষুধটি খাবেন। তারপর বাকি খাবার খাবেন। এতে আয়রন ভালোভাবে শোষিত হবে শরীরে। কোষ্ঠকাঠিন্যও কম হবে।

– Post by আশিকুর রহমান স্বদেশনিউজ২৪.কম

সোর্সঃ ইন্টারনেট

No Responses

Write a response