যাকাতের পরিচিতি ১ম পর্ব

যাকাত হচ্ছে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ। ফিকহ শাস্ত্রের আলোচনায় যাকাতা একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সমাজ ও রাস্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করেণে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দুরীকরণে যাকাত সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করছে। গরীবদের অধিকার বাস্তবায়নে ধনীদের সম্পদে যাকাত ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে। নিন্মে যাকাতের পরিচয় তুলে ধরা হল –

zakat
যাকাতের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে –
১. বৃদ্ধি করা।
২. পবিত্রতা লাভ করা।
৩. প্রশংসা করা।
৪. বরকত, কল্যাণ।
৫. Charity.
যাকাতের পারিভাষিক সংজ্ঞা নিন্মরুপ –
১. ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় যাকাত হলো হাশেমী বংশদ্ভুত ও তাদের গোলাম ব্যতিত অসহায় মুসলমানদেরকে শরীয়ত নির্ধারিত সম্পদের অধিকারী বানানো তার থেকে কোন ধরনের উপকারিতা আশা করা ছাড়া।
২. যাকাত হল শরীয়ত ভিত্তিক নিয়ম অনুযায়ী মালিকাধিন সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট সম্পদ প্রত্যেক বছর আদায় করা।
৩. কেউ কেউ বলেন, ধনীরা ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত খাতে যে সম্পদ আদায় করেন তাকে যাকাত বলে।
৪. যাকাত হলো গরীবদের এমন অধিকার যা ধনীদের মালে আবশ্যক হয়। বছরান্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ তাদেরকে দান করতে হয়।
৫. কতিপয় আলেমের মতে, ধনীরা ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত খাতে যে সম্পদ দান করেন তাকে যাকাত বলে।
৬. ধনীদের সম্পদের উপর গরীবের শরীয়ত সম্মত যে অধিকার রয়েছে তাকে যাকাত বলে।
সুতরাং কোন স্বাধীন সুস্থ জ্ঞানবান মুসলমানের মালিকানায় যদি এই পরিমান মাল থাকে যা সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ কিংবা সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্যের সমান হয় এবং তা এক বছর পর্যন্ত বহাল থাকে তাহলে শতকরা আড়াই টাকা হারে যাকাত দিতে হবে।

No Responses

Write a response