গ্রাফিক্স ডিজাইন মার্কেট প্লেস বিষয়ক কিছু কথা

image

আজকে একজন গ্রাফিক ডিজাইনার মার্কেটপ্লেসের জন্য কিভাবে নিজেকে তৈরি করবে সে সম্পর্কে লিখছি।

ডিজাইন বেসড কাজের জন্য মার্কেটপ্লেসে ঢুকার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম কাজ হল ডিজাইন ভালো করে শিখা, অনেক উদাহারন দেখা যায় যেক্ষেত্রে অনেকেই কাজ পায় না বলে মুখ
গোমড়া করে থাকেন। তাদের সাথে কথা বলে দেখেছি অনেকে আছেন কালার কোড বুঝেন না, অনেকে আছেন CMYK কি তা জানেন না, অনেকে পেনটুলের কাজ পারেন না, এমন কি অনেকে আছেন ফটোশপে স্মার্ট ফিল্টার, লেয়ার ব্লেন্ড মোড এসব সম্পর্কেও তেমন জানেন না।

image

যেক্ষেত্রে আপনি ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে কাজ করতে যাবেন সেক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল ডিজাইনারদের যা যা জ্ঞান আছে তা আপনার ও
থাকতে হবে। কমপক্ষে ফটোশপ আর
ইলাস্ট্রেটর এর ভালো ধারনা থাকতেই হবে। যারা যারা মার্কেট প্লেসে কাজ পান না তারা নিচের প্রশ্ন গুলি পড়তে পারেন।

১ আপনি কি কালার কত প্রকার তা জানেন ?
২ আপনি দৈনিক ডিজাইনে বেশি সময় দেন নাকি ফেসবুকে বেশি থাকেন ?
৩ মার্কেট প্লেসে কয় জন সফল ফ্রিলান্সার দের প্রোফাইল ঘুরে দেখেছেন ?
৪  বিড করার সময় কি চিন্তা করেছেন যেই
ক্লায়েন্ট ডলার খরচ করে আপনাকে হায়ার
করবে সে কি দেখে হায়ার করবে ?
৫ বড় বড় সাইটে নিয়মিত কাজ দেখেন ?
৬ ডিজাইনের ট্রেন্ড সম্পর্কে কতটুকু খবর
রাখেন ?
৭ আপনার কি মানসম্মত পোর্টফলিও আছে ?
প্রশ্নের উত্তর গুলি হ্যাঁ বোধক হলে বিড
করতে থাকেন কাজ আপনি এক সময় পাবেন, আর না হলে আগে উপরের পয়েন্ট গুলি হ্যাঁ বোধক করে আসুন
প্রথমে ডিজাইনের প্রায় সব ধরনের কাজ ই শিখবেন তবে মার্কেট প্লেসে বিড করার সময় যেই কাজে আপনি সবচে বেশি ভালো সেটা দিয়ে বিড করাই উত্তম
আপনার প্রোফাইল অবশ্যই সুন্দর হতে হবে, ওভারভিউ সুন্দর করে লিখুন, পোর্টফলিওতে কাজ গুলি আপলোড করুন (অবশ্যই সেই কাজ যা আপনার মনে হবে যে এইটা আপনার ভালো কাজ গুলির একটি এবং প্রফেশনাল, সব কাজ
ভুরি ভুরি করে আপলোড দিয়ে প্রোফাইল নষ্ট করবেন না)। প্রোফাইল সাজানোর ক্ষেত্রে বেষ্ট সাজেশন হল সফল ফ্রিলান্সার দের প্রোফাইল দেখা, সেখান থেকে আইডিয়া নিয়ে প্রোফাইল তৈরি করুন । আর একটি কথা ইংলিশ ভালো জানতে হবে আপনাকে, কমিউনিকেশন করার জন্য। আপনি কাজ ও পারেন প্রোফাইল ও ঠিক ভাবে
সাজিয়েছেন এখন কি করবেন, এর উত্তর হল পোর্টফলিও সাইট। অবশ্যই একটা আলাদা সাইটে পোর্টফলিও রাখবেন, পারলে বাঘা বাঘা ডিজাইনার দের পোর্টফলিও দেখে ইন্সপিরেশন
নিতে পারেন। আবার অনেকে ডিভিয়ান্ট আর্ট, বেহান্স সহ বিভিন্ন সাইটে ফুল ফ্রি।পোর্টফলিও তৈরি করেন। (আমি
নিজেও)পোর্টফলিও সাইট লিঙ্কঃ

http://behance.net/
http://deviantart.com/

এখন শেষ কথা হল কভার লেটার, এই ক্ষেত্রেই সমস্যা দেখা দেয়, অনেকে স্যার, ম্যাডাম লিখে ভরিয়ে ফেলেন, অনেকে কাজের জন্য অনুরোধ
করেন। এসব কিছু এভয়েড করুন। বি স্মার্ট, সহজ সরল ভাষায় একটা কভার লেটার লিখুন আর সাথে আপনার বাঘা পোর্টফলিওর একটা
লিঙ্ক সাম্পল হিসেবে দিয়ে দেন। Odesk,
Elance এ পোর্টফলিও লিঙ্ক দিলে সমস্যা.করে না তবে পিপিএইচ এ অবশ্যই লিঙ্ক দিবেন না।

কভার লেটার লিখার একটা স্যাম্পল দিলাম যা কাজে লাগবেঃ

“হাই জন, আমি তোমার জব পোস্ট টা পড়েছি, এবং আমি এই কাজ টা করতে পারবো, এই দেখো কাজের স্যাম্পল।
থ্যাংকস পোর্টফলিও লিঙ্ক”

বিশ্বাস করবেন না হয়তো আমি এই ভাবে কভার লেটার লিখেই ১৪ টা বিডের মধ্যে ৭ টায় ইন্তারভিউ দেয়ার চান্স পেয়েছি, তবে প্রথমে জব পোস্ট পড়ে নিবেন আর এমন কোন অফার দিবেন কভার লেটারে যা পড়ে একবার হলেও ক্লায়েন্ট চিন্তার মধ্যে পড়ে যায়, যেমন লোগোর ক্ষেত্রে একটা ডায়লগ একদম কমন, “এই লোগোটা তোমার কোম্পানির সিম্বল
হবে তাই তোমার এমন একটা লোগো লাগবে যা তোমার কোম্পানির সারমর্ম বহন করবে এবং সেই আর্ট ওয়ার্ক টি আমি সঠিক ভাবে তৈরি করতে পারবো।” এরকম অফার দিলে যে পড়বে তার মাথায় চিন্তা ভাবনা শুরু হবে আপনাকে নিয়ে 😉

আর আমার হাজার হাজার বছরের অভিজ্ঞতা আছে আমি এই পারি আমি ওই পারি আমি বেষ্ট কভার লেটারে এসব লিখা থেকে বিরত থাকবেন।
আপনার পোর্টফলিও স্যাম্পল, আর একটা সিম্পল কভার লেটার ই কাজ পাবার জন্য যথেষ্ট। 🙂

আরেকটি ইম্পরট্যান্ট কথা বলতে ভুলে গেছি, গুগলের সাথে ভালো বন্ধুত্ব করুন,
মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে গেলে টের পাবেন
গুগলের মত ভালো বন্ধু মার্কেটপ্লেসে আর নেই, অনেকেই গুগল সার্চ করতে এক ঘেয়েমি অথবা বিরক্তিকর মনে করেন। সর্বদা সার্চ ইঞ্জিন গুগলকে সাথে রাখবেন। অনেক কথা বললাম ভুল থাকলে ক্ষমাসুলভ দৃষ্টিতে দেখবেন আর আসলে সব কিছু সংক্ষিপ্ত আকারে লিখে ফেলেছি, ভবিষ্যতে সময় করে ডিটেইলসে লিখবো।
ধন্যবাদ 🙂

No Responses

Write a response