বড় হয়ে নতুন বন্ধু তৈরি করার উপায় !

বড় হয়ে নতুন বন্ধু তৈরি করার উপায় ! কিশোর বা তরুণ বয়সে বন্ধুর অভাব হয় না। তবে বড় হয়ে নতুন বন্ধু তৈরি করা সত্যিই কষ্টসাধ্য।অনেকে ভাবতে পারেন বড় হয়ে নতুন বন্ধু খোঁজার কী দরকার! পুরানরাই তো আছে।

তবে একবার ভাবুন তো— নতুন অফিসে চাকরি নিয়েছেন বা, বদলি সূত্রে গিয়েছেন অন্য জায়গায়। তখন সময় কাটাতে বন্ধুর দরকার হতেই পারে। আবার বিয়ের পর সংসারী হয়ে যাওয়ায় পুরান বন্ধুরা আর সময় দিতে পারে না। আপনি হয়তো বিয়ে করেননি বা, যে কোনো কারণে সংসার ভেঙেছে! তখনতো নতুন বন্ধুর দরকার হতেই পারে।

আর এসব বিষয়ের উপর গবেষণা করে মার্কিন মনোবিজ্ঞানি ও অধ্যাপক ড. অ্যান্ড্রিয়া বোনার ‘ফ্রেন্ডশিপ ফিক্স: দ্য কমপ্লিট গাইড টু চুজিং, লুজিং অ্যান্ড কিপিং আপ উইথ ইউর ফ্রেন্ডস’ নামের একটি বই রচনা করেছেন।

সাইকোলজি টুডে ডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ড. বোনার বলেন, “বইটি লেখার আগে গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি, বন্ধু তৈরির ক্ষেত্রে বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়ষ্কদের সমস্যা একই রকম।”

আর এই সমস্যাগুলো একত্র করতে সাহায্য করেছেন ‘গার্লফ্রেন্ডসার্কেলস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাস্তা নেলসন। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এই সংগঠনের কাজ হচ্ছে বন্ধু বিহীন মহিলাদের বন্ধু খুঁজে দেওয়া।

সাইকলজি টুডে ডটকমে প্রকাশিত এইসব সমস্যা মোটেই মেয়েলি নয়। বরং প্রাপ্তবয়ষ্ক সবার জন্যই প্রযোজ্য। আর এইসব সমস্যার সহজ সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ড. বোনার।

বন্ধু দিবসে যারা নতুন বন্ধু তৈরি করতে আগ্রহী, তাদের কাজেও লাগতে পারে এসব পরামর্শ।

সমস্যা ১

আমি শহরে নতুন এসেছি/ নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছি। আমার বর্তমান সামাজিক জীবন নিয়ে আমি বিব্রত ও একাকীত্বে ভুগছি। ঠিক কোন উপায়গুলোর মাধ্যমে আমি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সহজে শুরু করতে পারব?

পরামর্শ

প্রথমে প্রতিবেশী/সহকর্মীদের সঙ্গে পরিচিত হোন। সময় কাটান তাদের সঙ্গে। এ বিষয়ে প্রয়োজন পড়লে ফেইসবুকের সাহায্য নিন। ফেইসবুক বন্ধুদের বলতে পারেন, তাদের পরিচিতদের সঙ্গে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিতে। হঠাৎ করে কাউকে দুপুরের খাবারে নিমন্ত্রণ করাটা হয়ত কঠিন, তবে সঙ্গে যদি দুজনেরই সুপরিচিত কেউ থাকে তাহলে তা অনেকটাই সহজ। আর এভাবেই অপরিচিতদের সঙ্গে পরিচিত হোন, সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। দেখবেন তাদের মধ্য থেকেই কারও কারও সঙ্গে আপনার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠছে।

সমস্যা ২

প্রচণ্ড ব্যস্ততার কারণে আমার আগের বন্ধুদের ঠিকমতো সময় দিতে পারছি না। একা থাকার চাইতে বরং নতুন বন্ধু তৈরি করা ভালো। আর সবচেয়ে গুরুত্বের বিষয় হচ্ছে কেনো আমি নুতন বন্ধু খুঁজব? কীভাবেই বা বন্ধুত্ব শুরু করব?

পরামর্শ

আমাদের মধ্যে অনেকেই অনেককে চেনেন। তবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। বিষয়টি নিয়ে তারা নিজেই নিজের মধ্যে অনুতপ্ত থাকেন। অন্যদিকে যাদের একাধিক বন্ধু সার্কেল থাকে তাদের চেয়ে যারা একটি সার্কেলের সঙ্গে চলাফেরা, যোগাযোগ বজায় রাখেন তাদের কাছের বন্ধু বেশি থাকে। সুতরাং একটি সার্কেল রাখার চেষ্টা করুন। আর বন্ধুত্ব মানে এই নয় যে ‘যদি সময় থাকত তাহলে খুব ভালো হত’ বরং সুখী, সুস্থ এবং অর্থপূর্ণ জীবনের জন্য বন্ধুত্ব খুবই জরুরি। সেজন্যই ‘বন্ধু’ প্রয়োজন।

সমস্যা ৩

যখনই আমি নতুন কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে যাই, তখনই মনে হয় আমার সঙ্গে মানুষ কেনো বন্ধুত্ব করবে? বা, আমার কথা শুনতে কি বোকা বোকা লাগে? আমি কীভাবে এই ভয় কাটাবো?

পরামর্শ

সবার মধ্যেই নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে। সবাই প্রত্যাখ্যানকে ভয় পায়। এ ভয়ে আপনি একা ভীত নন। সবচেয়ে ভালো মানুষটিও মনে করে, সে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তার মানে এই নয় যে আমরা থেমে যাব। এই ভয় চিরতরে দমানো সম্ভব না হলেও অন্যরা একই সমস্যায় ভুগে থাকে এটি মনে করে ভয়কে মোকাবেলা করার সাহস আনতে হবে। আর এটা করতে পারলেই দেখবেন সমস্যাগুলো আর থাকছে না।

সমস্যা ৪

অন্যান্য মানুষের মুখে শুনি তারা অনলাইনে বন্ধু খুঁজে পেয়েছে। তবে ঠিক বুঝতে পারছি না কোথা থেকে শুরু করা উচিত। নিজের বিষয় মানুষকে জানানোর ক্ষেত্রে একটু ধীরগতিতে এগোতে পছন্দ করি। আর অনলাইন বিষয়বস্তুতে বিশ্বাসী নই। আমার মতো মানুষদের জন্য কি কোনো ধরনের ওয়েবসাইট আছে?

পরামর্শ

সত্যি বলতে, অনলাইনেই বরং ধীরগতিতে একজনের সঙ্গে আরেকজনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ঠিক যেমনটি আপনি চান। তবে একটা বিষয় মনে রাখা উচিত বন্ধু-সম্পর্কিত ওয়েবসাইটগুলো শুধুই একটি মাধ্যম। এগুলো অনেকটা অপরিচিতদের আড্ডা বা টেলিফোন বুথের মতো। সুতরাং এগুলোর মাধ্যমে মানুষকে বিচার না করাটাই ভালো। পরে তাদের সঙ্গে আপনার কথাবার্তার ভিত্তিতে বিষয়গুলো চিন্তা করবেন।

অনলাইনে এ ধরনের বিভিন্ন সাইট আছে, সেগুলোতে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আর অনলাইনেই যে বন্ধু পেতে এমন তো কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এর বাইরেও খুঁজে পেতে পারেন আপনার কাঙ্ক্ষিত বন্ধু।

সোর্সঃ ইন্টারনেট

No Responses

Write a response