ব্লগিংকে পেশা হিসেবে কেন নেবেন? গর্ব করে বলুন আমি ব্লগার!!

image

অনলাইনে উপার্জনের যতগুলো মাধ্যম রয়েছে তার মধ্যে ব্লগিং হচ্ছে সবচেয়ে স্থায়ী ও মজবুত মাধ্যম। ব্লগিং এর সাথে Google Adsense এর একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

এজন্য যারা Google Adsense এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে চান তাদের ব্লগিং সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা থাকা প্রয়োজন।

প্রধানত: ব্লগিং সাইটের জন্যই Google
তার Adsense প্রোগ্রামটি চালু করেছে।
একটি মানসন্মত ব্লগিং সাইটে যে কতভাবে উপার্জন হতে পারে-তা সত্যি কল্পনাতীত।

Google Adsense এর মাধ্যমে,ইমেজ
এডভার্টাইজিং এর মাধ্যমে। প্রাইভেট এ্যাড এর মাধ্যমে, এ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে, এমন অনেক সাইট রয়েছে, যারা একটি Pr-1,2,3 সাইটে তাদের লিংক
সংযোজনের বিনিময়ে অর্থ প্রদান করে। এ ধরনের বহুমূখী উপার্জনের রাস্তা খুলে যায় একটি মানসন্মত ব্লগিং সাইটের জন্য।

ব্লগিং কি?

এবার আসি ব্লগিং বলতে আমরা কি বুঝি।
সাধারণভাবে ব্লগিং বলতে কোন সেবা বা
সার্ভিস প্রদানকে বুঝায়। বিশ্বে সেবা
প্রদানের অসংখ্য বিষয় রয়েছে, যার মাধ্যমে আপনি ব্লগিং করতে পারেন। আমি একবার ঠান্ডাজনিত একটি সমস্যা সমাধানের জন্য Google এ সার্চ দিয়ে স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি সাইটে প্রবেশ করে দেখলাম-শুধু ঠান্ডাজনিত
নয়, অনেক ধরনের রোগ, তার কারণ,
সমাধান বিস্তারিতভাবে বর্ণনা দিয়েছে-
সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এই যে তারা একটি
সার্ভিস দিচ্ছে-এটাই ব্লগিং। আবার একবার একটি গ্রিটিংস কার্ড প্রয়োজন হওয়ায় Free Greetings card দিয়ে সার্চ দেওয়ায় কয়েক হাজার সাইট পেলাম। যারা বিভিন্ন ধরনের গ্রিটিংস কার্ড (যেমন: Birthday,
Wedding, Friendship, invitation
card ইত্যাদি) বিনামূল্যে সরবরাহ করছে।

এটা এক ধরনের ব্লগিং। গ্রাফিক্স ডিজাইন ,ওয়েব ডিজাইন শেখার জন্য সার্চ দিন, দেখবেন-হাজার হাজার সাইট রয়েছে, সম্পূর্ণ ফ্রি টিউটোরিয়াল দিচ্ছে এসব সাইট। এটা ব্লগিং। লক্ষ্য করলে দেখবেন, এসব সাইটের অধিকাংশই ব্যবহার করছে Google Adsense.

ব্লগিং কে পেশা হিসাবে নিবেন
কেন?

১. ব্লগিং এর উপার্জন দীর্ঘমেয়াদী ও
আনলিমিটেড। প্রথাগত চাকুরির মত কোন
লিমিট নেই ব্লগিং এর আয়ের। আপনার
মাসিক আয় হতে পারে ১ হাজার ডলার, ২, ৩ বা তারও উপরে। এটা নির্ভর করবে আপনার ব্লগিং পরিকল্পনা, শ্রম, ধৈর্য ইত্যাদির উপর।

২। ব্লগিং একটি সহজ পেশা। যে কেও, যে
কোন সময়, যে কোন স্থানে বসে ব্লগিং
করতে পারে। একজন ছাত্র তার পড়াশোনার পাশাপাশি, একজন চাকুরিজীবি তার চাকুরির পাশাপাশি, একজন গৃহিণী তার কাজের পাশাপাশি ব্লগিং করে অর্থ উপার্জন করতে
পারে।

৩। চাকুরি পেতে ঘুষ, মামা-চাচা আরো
অনেক কিছু প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে ব্যবসা করতে প্রয়োজন বিশাল পুঁজি, সাথে রয়েছে বিশাল ঝুঁকি। অন্যদিকে ব্লগিং এর জন্য প্রয়োজন মাত্র একটি ইন্টারনেট সংযুক্ত পিসি, ডোমেইন/হোস্টিং কেনার জন্য ২/৩
হাজার টাকা আর আপনার ব্লগিং পরিকল্পনা ও শ্রম ও মেধার সদ্ব্যবহার।

৪। পৃথিবীর যতগুলো স্বাধীন পেশা রয়েছে, তার মধ্যে ব্লগিং অন্যতম। কখনো কাজ করতে মনে চাচ্ছে না, ঘুমিয়ে পরলেন। কোথাও হতে বেড়িয়ে আসলেন। কারো কাছে জবাবদিহি করতে হবে না।

৫। ব্লগিং করতে আপনাকে করতে হবে
প্রয়োজনীয় স্টাডি। শিখতে হবে
প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার (যেমনঃ Web
Design, SEO ইত্যাদি), যা আপনাকে
বিভিন্ন বিষয়ে প্রফেশনাল ও করে গড়ে তুলবে যা, ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমেও আয়ের সহায়ক হবে।

আপনি কি ব্লগিং করতে পারবেন?

আপনি যদি ইংরেজিতে ২/৩ লাইন লিখতে
পারেন। তাহলে আপনিও ব্লগিং করতে
পারবেন। অথবা, বিষয়বস্তুকে সুবিন্যস্তভাবে সাজাতে পারেন, তাহলে আপনিও ব্লগিং করতে পারবেন। আমি একবার আমার এক রিলেটিভের নবজাতকের একটি নাম জানার জন্য সার্চ দিয়ে দেখলাম এমন অনেক সাইট
রয়েছে, যারা শুধুমাত্র নবজাতকের সুন্দর ও অর্থবহ নাম দিয়ে সার্ভিস দিচ্ছে। এটা কি ব্লগিং না? এখানে তো আর্টিক্যাল লেখার কিছু নেই। একই নাম একাধিক অনেক সাইটে দেখলাম। শুধুমাত্র নামগুলোকে এক একজন এক এক স্টাইলে সাজিয়েছে। আমি আশ্চর্য হয়ে দেখলাম-এসব সাইটেও তারা Google Adsense ব্যবহার করেছে।

আপনাকে যদি বলা হয়, একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক ব্লগ সাইট করার জন্য, আপনি কি এ সম্পর্কিত ভাল মানের একাধিক সাইটকে ফলো করে, উক্ত সাইটের তথ্যাদি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে, প্রয়োজনে বাজার হতে এ বিষয়ক বই সংগ্রহ করে নিজের মত কিছু লিখতে পারবেন না? আপনি অন্তত সাধারণ জ্ঞানের
জন্য প্রশ্নোত্তর টাইপের ব্লগিং নিশ্চয়ই করতে পারবেন। তাহলে সাধারন জ্ঞান বিষয়ক একটি সাইট করুন না! এ বিষয়ক সাইটগুলো ভিজিট করুন। তাদের তথ্যকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আপনি লিখে পোস্ট করুন।

আপনি তো তাদের তথ্য কপি/পেস্ট করতে যাচ্ছেন না! আসলে, প্রচেস্টা থাকলে আপনার ব্লগের উপকরণ ইন্টারনেটেই ছরিয়ে আছে। এসব যদি পারেন, তবে আপনিও অবশ্যই ব্লগিং করতে পারবেন।

টেকনিক্যাল জ্ঞান ব্লগিং সাইট তৈরি, প্রতিনিয়ত আপডেট, রক্ষনাবেক্ষণের জন্য আপনাকে অব্শ্যই ওয়েব সাইট ডিজাইন ও ডেভলেপমেন্ট জানতে
হবে। সাধারণ মানের একটি সাইট করতে
Html, Css, javascript শিখলেই হবে।
কিন্তু, প্রফেশনাল মানের একটি সাইট করতে, বিশেষত ডাইনামিক সাইট তৈরি করতে Php/ mysql, Joomla, WordPress শিখতে
হবে। এ সম্পর্কিত জ্ঞানের জন্য আমাদের বিভিন্ন টিউটোরিয়াল প্যাকেজ রয়েছে।

সাইট তৈরি, এবার প্রচারে
নামুন সাইট তৈরি হওয়ার পরে আপনাকে ভিজিটর বৃদ্ধির জন্য মনোযোগী হতে হবে। এজন্য seo এর বিক্ল্প নেই। এজন্য seo এর প্রাথমিক বিষয়গুলো (যেমন: ব্যাকলিংক, ফোরাম পোস্টিং, বুকমার্ক, ফেসবুক ইত্যাদি) প্রয়োগ করুন। দেখবেন ধীরে ধীরে আপনার সাইটে ভিজিটর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অতঃপর Google Adsense এর জন্য
আবেদন করুন। সাইট তথ্যসমৃদ্ধ হলে
অবশ্যই Google Adsense এ্যাপ্রুভ হবে
ইনশাল্লাহ্। আপনার ব্লগ সাইট পরিচিতি
হবে, Page Rank বাড়তে থাকবে, অর্থ
উপার্জনের বহুমূখী সোর্স হবে আপনার ব্লগ সাইট।

আর্টিক্যালটি ভাল লাগলে কমেন্টস করুন।

No Responses

Write a response