বেশিদিন বাঁচতে চাইলে, দৌড়ান

বেশিদিন বাঁচতে চাইলে, দৌড়ানপ্রতিদিন দৌড়ান অল্প কয়েক মিনিট হলেও। বেশিদিন বাঁচতে দৌড় কাজে আসে। হূদরোগে মারা যাওয়ার ঝুঁকি থেকেও বাঁচিয়ে দিতে পারে নিয়মিত দৌড়ানোর অভ্যাস। সম্প্রতি মার্কিন গবেষকেরা তাঁদের এক গবেষণায় এ তথ্য পেয়েছেন।

আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও এই গবেষণা প্রবন্ধের প্রধান লেখক ডাক-চুল লি বলেন, ‘নিয়মিত শারীরিক কসরতের ক্ষেত্রে সময় এখন আমাদের বড় একটি বাধা বলে মনে করা হয়। এই গবেষণা মানুষকে দৌড়ানোর জন্য উত্সাহ দেবে। বেশিদিন বাঁচার লক্ষ্যে দৌড়ানো শুরু করে ও তা ধরে রাখতে উত্সাহ মিলবে।’

এই গবেষণার জন্য ১৮ থেকে ১০০ বছর বয়সী ৫৫ হাজার ১৩৭ জন ব্যক্তিকে নিয়ে গত ১৫ বছর ধরে গবেষণা করেছেন তাঁরা।

সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৌড়ানো ও দীর্ঘায়ুর মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা বের করতে দীর্ঘদিন ধরে এ গবেষণা চালিয়ে আসছেন গবেষকেরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ৫১ মিনিটের কম, ছয় মাইলের বেশি, ঘণ্টায় ছয় মাইলের কম গতিতে ও সপ্তাহে দু-একবার দৌড়ান তাঁরা যারা মোটেও দৌড়ান না তাদের চেয়ে কম মৃত্যু-ঝুঁকিতে থাকেন। গবেষণার সময় যে তিন হাজার ৪১৩ জন মারা যান তাদের মধ্যে এক হাজার ২১৭ জন হূদরোগে আক্রান্ত হন। গবেষণায় সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ শতাংশ দৌড়কে তাদের অবসর সময়ের ব্যায়াম হিসেবে নিয়েছিলেন।

গবেষকেরা বলেন, যাঁরা সপ্তাহে এক ঘণ্টারও কম দৌড়ান তাঁরাও যাঁরা সপ্তাহে তিন ঘণ্টার বেশি দৌড়ান তাদের সমান দীর্ঘায়ু সুবিধা পেতে পারেন। দীর্ঘায়ু লাভের জন্য বেশি দৌড়ালে বেশি সুবিধা—এ ধারণা ঠিক নয়। টানা ছয় বছর ধরে গড়পড়তা দৌড়ের অভ্যাস থাকলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। হূদরোগ ও স্ট্রোকের মৃত্যু ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কমে। যাঁরা দৌড়ান না তাঁদের তুলনায় যাঁরা নিয়মিত দৌড়ান তাঁরা গড়ে তিন বছর বেশি বাঁচেন। কত বেশি, কত দূর, নিয়মিত নাকি অনিয়মিত, কত দ্রুত এসব বিবেচনায় না নিয়ে দৌড়ালেই এ সুবিধা মিলবে বলে তাঁরা দাবি করেন। নারী-পুরুষ, কম বয়সী-বেশি বয়সী, ওজন বেশি-কম, ধুমপায়ী-অধুমপায়ী সকলেই এ সুবিধা পাবেন।

গবেষণা প্রসঙ্গে গবেষকরা বলেছেন, দৌড়াতে উত্সাহ দেওয়ার বিষয়টি ধূমপান প্রতিরোধ, স্থূলতা ও উচ্চরক্তচাপ প্রতিরোধের প্রচারণার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

সোর্সঃ ইন্টারনেট

No Responses

Write a response