বিখ্যাত ফুটবলার বাবার ছেলেরা

বাবারা ছিলেন ফুটবলের মহাতারকা। কারও বাবা জিতেছেন বিশ্বকাপ। কারও বাবা অবশ্য বিশ্বকাপ না জিততে পারলেও তাঁদের খেলোয়াড়ি জীবনের অর্জন নেহাতই কম নয়। ফুটবলের ওই সব বিখ্যাত বাবাদের ছেলেরা অনেকেই অনুসরণ করছে বাবার দেখিয়ে দেওয়া পথ। চুটিয়ে ফুটবল খেলে যাচ্ছে তারাও। জিনেদিন জিদান, পাওলো মালদিনি, রিভালদো কিংবা ফন ডার সার—এঁদের সবারই ছেলে যেন বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে বাবাদের উত্তরাধিকার। এরা আদৌ বাবার মতো হতে, কিংবা বাবাকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে কি না, সেই প্রশ্ন ভবিষ্যতের হাতে তুলে দিয়ে আসুন জেনে নেওয়া যাক কেমন যাচ্ছে ‘জুনিয়র’দের ফুটবলার হিসেবে গড়ে ওঠার জীবনটা…

রিয়ালের জার্সিতে জিদান-পুত্র এনজো। ছবি: মেইল অনলাইন
জিদানের মতোই মধ্যমাঠ মাতাচ্ছে এনজো

চাইলে সে বেছে নিতে পারত স্পেনকে, এমনকি আলজেরিয়াকেও। কিন্তু বাবার মতোই ফ্রান্সের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখেন এনজো। ১৮ বছর বয়সী এনজোর পুরো নাম এনজো অ্যালান জিদান ফার্নান্দেজ।তবে এনজো ফার্নান্দেজ (তাঁর মায়ের নাম) নামেই ডাকা হয় তাঁকে। জন্ম ফ্রান্সে হলেও ছোটবেলাতেই দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে এনজো পাড়ি জমিয়েছেন স্পেনে। খেলেন বাবার পুরোনো ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের ‘এ’ দলে (মূল দলের ঠিক এক ধাপ নিচে)। জেনে রাখুন, বাবার মতোই সে হয়েছে মিডফিল্ডার।

রোমারিওর কার্বন-কপি রোমারিনহোরোমারিওর ছেলে রোমারিনহো
অনেকে এরই মধ্যে বলে ফেলেছেন, রোমারিনহো যেন বাবা রোমারিওর ‘কার্বন কপি’! বিশ্বকাপজয়ী বাবার মতোই খেলেন আক্রমণভাগে। এরই মধ্যে প্রতিভার প্রমাণও দিতে শুরু করেছেন। এখন খেলছেন ব্রাজিলের ক্লাব ব্রাসিলিয়েনসে। ইউরোপে পা বাড়ানোর সুযোগও এসেছিল। কিন্তু এখনই ওদিকে পা বাড়াতে রাজি নন রোমারিওর ২০ বছর বয়সী তনয়। বলেছেন, ‘বাবা স্পেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এসপানেওল ও লাস পালমাস থেকেও প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু আমি ব্রাসিলিয়েনস বেছে নিয়েছি। ক্যারিয়ারের শুরুটা ব্রাজিলেই করতে চাই।’

মালদিনির ছেলে ক্রিস্টিয়ানমালদিনির অপূর্ণতা পূরণে ক্রিস্টিয়ান
পাওলো মালদিনি দীর্ঘদিন সামলেছেন ইতালির রক্ষণভাগ। এসি মিলানেই কেটেছে গোটা খেলোয়াড়ি জীবন। ২০০২ সালে জাতীয় দলকে বিদায় বললেও ক্লাবকে বিদায় বলেছেন ২০০৯ সালে। যেখানে মালদিনি শেষে করেছেন, সেখানেই শুরু ছেলে ক্রিস্টিয়ান মালদিনির। এখন খেলছেন এসি মিলানের যুবদলে। বাবার মতো ক্রিস্টিয়ানও রক্ষণভাগের সেনানী। বাবার খেলোয়াড়ি জীবনে অবশ্য না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাসটা বেশ প্রকট। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেও ট্রফিটা হাতে নিতে পারেননি। বাবা জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার পরই বিশ্বকাপ জিতেছে ইতালি। বাবার এ অপূর্ণতাটুকু কি পূরণ করতে পারবেন ক্রিস্টিয়ান?

রিভালদোর মতোই প্রতিভাবান রিভালদিনহোছেলের সঙ্গে মাঠে নেমেছেন রিভালদো। ছবি: মেট্রো
২০০২ বিশ্বকাপজয়ী রিভালদো বেশ ভাগ্যবান। গত ফেব্রুয়ারিতে ছেলে রিভালদিনহোর সঙ্গে ব্রাজিলের ক্লাব মগি মিরিমের জার্সিতে লিগ ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন। বাবার মতো ছেলেও সেলেসাওদের হাতে বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিতে পারবেন কি না, তা এখনই বলা মুশকিল। তবে এরই মধ্যে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখাতে শুরু করেছেন রিভালদিনহো। রিভালদোর ছেলে খেলেন আক্রমণভাগে।

বাবা এডউইন ফন ডার সারের মতো ছেলে জো হয়েছেন গোলরক্ষক। ছবি: মেইল অনলাইনফন ডার সারের ‘গ্লাভস’ জোর হাতেই
এডউইন ফন ডার সার দীর্ঘদিন সামলেছেন হল্যান্ড, আয়াক্স, জুভেন্টাস, ফুলহাম ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলপোস্ট। ছেলে জো ফন ডার সারও অনুসরণ করছেন বাবার দেখিয়ে দেওয়া পথই। বাবার মতো জো ক্যারিয়ার শুরু করেছেন আয়াক্স একাডেমিতে। বাবার মতো বিখ্যাত গোলরক্ষক হতে পারবেন কি না, কিংবা বাবাকেও ছাপিয়ে যেতে পারবে কি না, সেজন্য অবশ্য অপেক্ষা করতে হবে আরও বহুদিন। তবে হাত দিয়ে তিনি বলটা ধরেন ভালোই। সূত্র: মেইল অনলাইন, মেট্রো, গোলডটকম।

সোর্সঃ ইন্টারনেট

No Responses

Write a response