বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করা উচিৎ

বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করা উচিৎ গত ২৯ জুলাই চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে মিল রেখে বাংলাদেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নানা ধরনের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে সবাই নিজের ও পরিবারের জন্যে রঙ বেরঙের পোশাক কিনেছেন।

তবে আমাদের দেশের টেলিভিশন অনুষ্ঠান কি পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের টেলিভিশন অনুষ্ঠান থেকে আকর্ষণীয় ছিল। দর্শক কি আমাদের দেশের চ্যানেলের উপর খুশি হতে পেরেছে। অন্যদিকে, ঈদে পোশাক বিক্রির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কি আধিপত্য বিস্তার করতে পেরেছে? না বিদেশি পোশাকে বাংলাদেশের বাজার সয়লাব ছিল।

এসব বিষয় নিয়ে শনিবার বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে কথা বলেছেন, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, কথাসাহিত্যিক ও মনোবিজ্ঞানী আনোয়ারা সৈয়দ হক ও ফ্যাশন ডিজাইনার ও সাংবাদিক এমদাদ হক।

অনুষ্ঠানে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, একটি সময় ছিল আমরা ভারতীয় টেলিভিশনের চেয়ে ভাল নাটক উপহার দিতাম। কিন্তু এটি স্বীকার করতে হবে যে, ভারতীয় চ্যানেলগুলোর নাটক অনেক বেশি মনোগ্রাহী। আমাদের চলচ্চিত্রের চেয়ে তাদের চলচ্চিত্রের স্টোরি অনেক ভাল। তাদের অভিনয়ও অনেক ভাল।

তিনি বলেন, আমাদের দর্শকরা এখন আমাদের নাটক দেখে কম। আমাদের নাটকের প্রতি তাদের আকর্ষণ অনেক কমে গেছে।

তিনি মনে করেন, আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব এবং পারিবারিক কাঠামো অনেক ছোট হয়ে আসা এবং মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে যাওয়ায় আজ ‘পাখি’ ড্রেস নিয়ে আত্মহত্যার মত ঘটনা ঘটাতে সাহায্য করেছে।

অনুষ্ঠানে আনোয়ার সৈয়দ হক বলেন, আমাদের দেশে আত্মহত্যার মত ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। চুলের ফিতা না পাওয়ায় আত্মহত্যা করছে, পছন্দের জামা না পাওয়ায় আত্মহত্যা করছে, গন্ধ তেল না পাওয়ায় আত্মহত্যা করছে।

তিনি বলেন, এগুলোর পেছনে মূল কারণ হচ্ছে আমাদের দেশে এখন সর্বত্র ডিসলাইন ছড়িয়ে গেছে। এখন সবাই ভারতীয় চ্যানেলের সিরিয়ালসহ নানা অনুষ্ঠান দেখে। সেসব দেখে আমাদের দেশের মানুষ প্রভাবিত হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, আমাদের দেশের কোনও প্রোগ্রাম ভারতে যায় না। তাদের দেশের সব প্রোগ্রাম আমাদের দেশে আসে। আমাদের দেশে ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া উচিৎ।

আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, ভারত বিশাল এক দেশ। তাদের সবদিক থেকে ক্ষমতা অনেক বেশি। আমাদের উচিৎ হবে, তাদের সব চ্যানেল থেকে আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের মুখ ফিরিয়ে রাখা।

অনুষ্ঠানে এমদাদ হক বলেন, পাখি ড্রেসটা বাজারে এসেছে আরও দুবছর আগে। কিন্তু এবার ওই ড্রেসকে পাখি নামে নামকরণ করা হয়েছে। মিডিয়া ওই ড্রেস নিয়ে ব্যাপক ক্যাম্পেইন করেছে। মিডিয়া যদি ক্যাম্পেইন না করত তাহলে পাখি ড্রেসের ক্রেতা বাংলাদেশে সৃষ্টি হত না।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে এবার সবচেয়ে বড় অবক্ষয় হচ্ছে পাকিস্তানি পোশাক। ফেইসবুক, টুইটার ও অনলাইনসহ সরাসরি মার্কেটে কিভাবে ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকায় তা বিক্রি হয়? তাদের ট্যাক্স দিয়ে ওই পোশাক ঢাকার মার্কেটে পৌঁছাতে হলে তো এই টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা না।

তিনি বলেন, এবার বাংলাদেশে পাকিস্তানি পোশাক এত পরিমাণে বিক্রি হয়েছে যে, যার কারণে বাংলাদেশি পোশাকের বিক্রি তেমন ভাল হয়নি।

এমদাদ হক বলেন, একটি পোশাক উৎপাদনের জন্যে যেসব কাঁচামালের দরকার হয় তা সব বাইরে থেকে আনতে হয়। এ কারণে আমাদের উৎপাদন খরচ বেশি হয়। ফলে আমাদের পোশাকের দামও একটু বেশি হয়।

No Responses

Write a response