ফ্রিল্যান্স রাইটার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান ?

image

“ ফ্রিল্যান্সিং ” হলো এখনকার সময়ের
ইন্টারনেট ইউজারদের জন্য একটা হট
টপিক। আমাদের দেশের মানুষের জন্যে
এটি সৌভাগ্য যে আমরা এখন দেশে
বসেই অন্য দেশের কাজ করে নিজেদের
প্রয়োজনীয় টাকা আয় করতে পারছি ,
যদিও সবাই এ বিষয়ে সফল না। সফল না
হওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ গুলোর
মধ্যে অন্যতম হলো ইংরেজী কম জানা,
ধৈর্য না থাকা , রাতারাতি বড়লোক হয়ে
যাওয়ার চিন্তা , নিজের ক্ষমতার
বাইরের কাজ করতে চাওয়া (যে কাজ
পারবে না সেই কাজ করতে যাওয়া) ,
কোন বিষয়ে শক্ত ভিওি নেই তবুও সে
কাজ করতে যাওয়া ইত্যাদি। এক কাজে
একাধিক মানুষ আবেদন করবে সেটাই
স্বাভাবিক , আর এর মধ্যে থেকে
আপনাকে আপনার নিজের সেরাটুকু দিয়ে
যেতে হবে , সব কাজ যে আপনি পাবেন
এমনটি কখনো ভেবে বসবেন না। ভালো
ভালো ফ্রিল্যান্সাররাও অনেক গুলো
কাজে আবেদন করে খুব অল্প সংখ্যকই
কাজ পায়। আপনি প্রতিদিন বিভিন্ন
প্রজেক্টে আবেদন করুন, ভালো কাজ
পারলে এবং যে কাজ দিয়েছে তাকে
বিভিন্ন স্যাম্পল দেখিয়ে এবং ভালো
ব্যবহার করে যদি আকৃষ্ট করতে পারেন
তবেই আপনি কাজ পাবেন , তাছাড়া
পাবেন না। মাসে মাত্র ৪ – ৫টা ভালো
মানের কাজ করতে পারলেই কিন্তু আর
কাজ করার প্রয়োজন হয় না। আজকে
যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো সেটি
হলো আপনি যদি ফ্রিল্যান্স রাইটার
হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান
তবে আপনাকে যা যা করতে হবে —

১ .ফ্রিল্যান্স রাইটারদের কাজ হলো
শুধু আরটিকেল রাইটিং, ব্লগ রাইটিং,
কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, আরটিকেল রিরাইট ,
বই লেখা ইত্যাদি, তারা অন্য কাজও
করতে পারে, তবে যারা প্রফেশনাল
তারা একটি বিভাগেই কাজ করে।
ফ্রিল্যান্স রাইটার হতে হলে সবার
আগে আপনাকে ইংরেজীতে দক্ষ হতে
হবে , ইংরেজীতে ভালো দক্ষতা না
থাকলে ফ্রিল্যান্স রাইটার হতে পারবেন
না।

২ .ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শুরুর আগেই
নিজেকে ঝালিয়ে নিতে হবে , প্রথমে
নিজে নিজেই টপিক বের করে লেখা শুরু
করুন, প্রথমে সহজ বিষয়ে লিখুন,
পরবর্তীতে নিজেকে কঠিন কঠিন বিষয়ে
লেখার জন্য চ্যালেঞ্জ করুন, এতে
আপনার দক্ষতা ও আত্নবিশ্বাস
বাড়বে।

৩ . লেখার সময় গ্রামারের প্রতি বিশেষ
নজর দিবেন , নিজের পক্ষে অনেক সময়
নিজের ভুল ধরা সম্ভব নাও হতে
পারে, তাই বিভিন্ন গ্রামার চেকার টুল
আছে , সেগুলো দিয়ে গ্রামার চেক
করাতে পারেন।

8 .ভালো মানের লেখকদের বই এবং
ভালো ব্লগারদের বই নিয়মিত পড়ুন,
এতে বিভিন্ন বিষইয়ে জ্ঞান বাড়বে।
৫ .প্রতিদিন কম করে হলেও ১০টি শব্দ
শিখবেন ডিকশনারি থেকে , এতে আপনার
শব্দের ভান্ডার বাড়বে।

৬ . আপনি যদি সাইড প্রোফেশন হিসেবে
ফ্রিল্যান্স রাইটিং কে নিতে চান তবে
বড় প্রজেক্টে (৫০০ আরটিকেল বা তারও
বেশি ) কাজ করবেন না। এতে যথাসময়ে
কাজ শেষ করতে না পারার ঝুকি থাকে,
সাধারণত ছোটখাট প্রজেক্ট যেমন
৫ – ১০০ আরটিকেলের কাজ করবেন,
আপনি কতদিনে শেষ করতে পারবেন তা
নিজে প্ল্যান করে নিয়ে তারপর আবেদন
করবেন।

৭ .কখনোই এমনটি ভাববেন না যে
আপনি কপি পেস্ট করে আরটিকেল জমা
দিবেন আর তারা এর জন্য আপনাকে
টাকা দিবে। যদি কপি পেস্ট
আরটিকেলেরই তাদের প্রয়োজন হত
তবে তারা নিজেরাই কপি করে নিত ,
আপনাকে টাকা দিয়ে কপি পেস্ট নিশ্চই
করাবেনা তারা।

৮ .প্রফেশনাল আরটিকেল রাইটার যারা
তারা সাধারণত বড় প্রজেক্ট গ্রুপে
করেন , মানে কয়েকজন মিলে করেন এতে
বেশ সুবিধা পাওয়া যায়।

৯ .আরটিকেল যদি ইউনিক চায় , তবে
কখনোই কোন ধরনের সফটওয়্যার বা
ট্রান্সলেটরের সাহায্যে রিরাইট করে
সেটাকে ইউনিক বানাবেন না, কারণ এতে
লেখা ইউনিক তো দূরে থাক , লেখার
আগা মাথা কিছুই থাকে না, সেরকম লেখা
গ্রহণযোগ্য না, কারণ এতে লেখার
ভাষাগত ত্রুটি , শাব্দিক ত্রুটি সহ নানা
ভুল থাকবে। সুতরাং যারা এ জাতীয়
মনোভাব পোষণ করেন যে আরটিকেল
রিরাইট করে দিবেন তারা মনোভাব
সংশোধন করুন।

১০. আরটিকেল রিরাইট করার কোন
প্রজেক্ট পেলে সেটা ম্যানুয়ালি করবেন,
কোন সফটওয়্যার বা ট্রান্সলেটর
ব্যবহার করবেন না, যদি করেন তাহলে
টাকা হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা ০ .০০%। .
আশা করি ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন।

১১. সবসময় কোন নির্দিষ্ট ধরণের
লেখার কাজ করার চেষ্টা করবেন,
অনেকেই ভাবেন যে সব লেখা একই রকম,
কিন্তু তা ভুল। অনেকে তাদের নিজস্ব
ব্লগের জন্য লেখা চায় , অনেকে প্রিন্ট
ম্যাগাজিনে দেয়ার জন্য লেখা চায় ,
অনেকে বই লেখার জন্য লেখা চায়।
প্রতিটি ক্ষেত্রেই লেখার মান ,
কোয়ালিটি এবং স্ট্যাইল ভিন্ন ভিন্ন ,
তাদের যে যেভাবে যার জন্য লেখা চায়
সেভাবেই লিখতে হবে।

১২ . আবেদনের পূর্বে যে বিষয়ের
আরটিকেল রাইটিং এর আবেদন করেছে
তার একটা ভালো মানের ইউনিক
স্যাম্পল দিয়ে দিন , কখনোই ভুলে করে
হলেও স্যাম্পল দেখার জন্য কোন
ওয়েবসাইটে যাওয়ার আবেদন করবেন না,
এমনটি করলে, কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা
কমে যায়, তবে আপনার যদি কোন
পোর্টফলিও ওয়েবসাইট থাকে ( যা কিনা
সকল প্রফেশনাল আরটিকেল রাইটারেরই
রয়েছে ) তবে সেটাতে যাওয়ার জন্য
বলতে পারেন , নিজের পোর্টফলিও
ছাড়া অন্য কোন কিছুর লিঙ্ক দিবেন
না।

১৩ . নিজেকে কখনোই তুচ্ছ মনে করবেন
না, আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীরা যত
ভালো মানের লেখকই হন না কেন
নিজেকে সবসময় তাদের সমকক্ষ মনে
করবেন। কারণ তারাও এক সময় আপনার
মতই ছিল , ধীরে ধীরে তারা উন্নতি
করেছেন।

১৪. কোন কাজ পেলে সেটাকে নিয়ে
অবহেলা করবেন না, নির্দিষ্ট সময়ের
আগেই আপনার কাজ শেষ করে সেটাকে
প্রুফরিড করুন অথবা গ্রামার চেকার
এবং স্পেল চেকার দিয়ে লেখার ভুল
সংশোধন করুন।

১৫. নিজেকে লেখার মাঝে উঝার করে
দিবেন , ভালো মানের লেখা পেলে একই
বায়ারের কাজ থেকে পরবর্তীতে আরো
কাজ পেতে পারেন খুব সহজে।

১৬ . কখনোই লেখার মাঝে নিজের
মতামত তুলে ধরবেন না। যেমন ধরুন
আপনি এমন প্রজেক্ট পেয়েছেন যেঁটাতে
বলা হল মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে
লিখতে, কিন্তু আপনি মাইকেল
জ্যাকসনকে পছন্দ করেন না, আর সে
কারণে যদি আপনি আপনার লেখার
নিজের মতামত তুলে ধরেন যে আমি
তাকে পছন্দ করি না, সে এই করসে , সেই
করসে , তাহলে কিন্তু আপনার প্রজেক্ট
গ্রহণযোগ্য হবে না, তাই লেখার সময়
পক্ষ্যপাতিত্ব করবেন না।

১৭. অনেক সময় কঠিক বিষয়ে লেখতে
হতে পারে, তখন আপনার উচিত সে
বিষয়ে কিছুটা পড়ালেখা করে নেয়া, এতে
লেখতে সুবিধা হবে , যে বিষয়ে লিখবেন
সে বিষয়ে কোন ধারণা না থাকলে
কখনোই ভালো লিখতে পারবেন না।
তাই যে বিষয়ে লিখবেন সে বিষয়ের
বিভিন্ন ফোরাম এবং ব্লগ ভিজিট করুন
এবং পড়ুন, এতে আপনার ধারণা ক্লিয়ার
হবে।

১৮ . ছোটখাট প্রজেক্ট হলে যেমনঃ
২০০ – ৩০০ শব্দের লেখা হলে , এবং
কোন জরুরী বিষয়ে লেখা হলে আগে
খাতায় খসড়া করে নিয়ে পড়ে টাইপ
করবেন।

উপরের টিপসগুলো মনে রেখে এবং মেনে
চললে আশা করি আপনি একজন ভালো
মানের ফ্রিল্যান্স রাইটার হতে
পারবেন।

No Responses

Write a response