পাখির জীবন বাঁচাতে পরিবেশবান্ধব কাচ

itprojukti.com/rssfeed

image

কাচের দেয়াল যদি খুব বেশি স্বচ্ছ
হয়, অসতর্ক অবস্থায়
তাতে ধাক্কা লাগার ঝুঁকি থাকে।
এ ধরনের ঘটনায় মানুষ হয়তো কেবল
হালকা ব্যথা পায় বা বিব্রত হয়।
কিন্তু পাখিদের দিতে হয় চরম মূল্য।
উড়ন্ত অবস্থায়
কোনো জানালা বা দেয়ালে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাখিদের এ
রকম অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু বন্ধ
করা উচিত। এ জন্য বর্তমানে প্রচলিত
প্রযুক্তিই যথেষ্ট। শুধু আমাদের
ইচ্ছেটা থাকা জরুরি।
অফিস বা বাসার জানালায় আঘাত
পেয়ে কোনো চড়ুই
বা দোয়েলের প্রাণ হারানোর
খবর আমরা দু-একটা শুনি বটে। কিন্তু
সেগুলোকে আমলে নিতে চাই
না। কিন্তু এভাবে মৃত পাখির মোট
সংখ্যাটা কিন্তু অনেক।
বিজ্ঞানীদের অনুমান, যুক্তরাষ্ট্র ও
কানাডায় প্রতিবছর জানালায়
ধাক্বা লেগে বছরে প্রায় ৬০
কোটি পাখির মৃত্যু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের
পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের
অ্যালেনটাউনে অবস্থিত
মুলেনবার্গ কলেজের
পাখিবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল
ক্লেম জুনিয়র বলেন, তেল
উপচে পড়া বা কীটনাশকের
কারণে যত পাখি মারা যায়—তার
চেয়ে অনেক বেশি পাখির মৃত্যুর
কারণ জানালা বা দেয়ালের কাচ।
শীতপ্রধান দেশগুলোতে বসন্ত ও
হেমন্তকালে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি
জায়গা থেকে অন্য জায়গায়
চলে যায়। এ সময় শহর ও
শহরতলিমুখী পাখিরা বেশি হারে
কাচে আঘাত পেয়ে মরে।
এ সমস্যা নিয়ে ক্লেম কাজ করছেন
১৯৭০-এর দশক থেকে। কিন্তু এ
ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট
সহযোগিতা বা অর্থের জোগান
পাননি। পাখিদের
সমস্যাটিকে গুরুত্বও
দিতে চায়নি সবাই। কিন্তু এখন
সমাধান আসতে শুরু করেছে।
বাজারে এসেছে নতুন ধরনের কাচ,
যা পাখিরা দেখতে পায়
এবং এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
কাচ উৎপাদনকারী সব প্রতিষ্ঠান
যদি এ ব্যাপারে সচেতন হয়
এবং নিজেদের পাখিবান্ধব
বলে প্রমাণ করে, আর জানালার
কাচ ক্রেতারাও যদি পাখিদের
নিরাপত্তার ব্যাপারটা মাথায়
রাখেন—লাখ লাখ পাখির প্রাণ
বাঁচানো সম্ভব হবে।
পাখিদের রক্ষার জন্য
পশ্চিমা দেশগুলো ইতিমধ্যে সতর্ক
হয়েছে। টরন্টো থেকে সান
ফ্রান্সিসকো পর্যন্ত বিভিন্ন
শহরে এসেছে পাখিবান্ধব নতুন নতুন
আইন ও স্বেচ্ছাসেবী নির্দেশনা।
পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণের
পাশাপাশি স্থপতি ও
প্রকৌশলীদের
নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে পাখিবান্
কাচ ব্যবহার করার জন্য। তবে কেন
পাখিরা জানালার কাচের
দিকে ঝাঁপ দেয় এবং তাদের
রক্ষা করা কীভাবে সম্ভব
হতে পারে, সেসব নিয়ে আরও
বিস্তারিত
গবেষণা করা প্রয়োজন।
প্রাণী সংরক্ষণবিদ ক্রিস্টিন
শেফার্ড একধরনের নতুন কাচ
পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার
করে দেখছেন। তিনি বলেন,
পাখিদের চোখে পড়ে এমন
কোনো ‘বাধা’ কাচের
সামনে রাখলেই
তারা জানালা এড়িয়ে চলতে পার
এ জন্য সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো,
জানালায়
কোনো বাড়তি পর্দা বা সূর্যছা
করতে হবে। অথবা জানালার নকশায়
রঙিন প্রলেপ দিতে হবে বা বিশেষ
ধরনের স্টিকার লাগাতে হবে।
তা ছাড়া দিনের বেলায় আলোর
প্রভাবে কাচ যেন আয়নার
মতো প্রতিফলকের কাজ না করে,
সেই ব্যবস্থাও রাখতে হবে। কারণ,
কাচের আয়নায় গাছপালা, আকাশ ও
অন্যান্য বিভ্রান্তিকর দৃশ্য
দেখে পাখিরা সেখানে ঝাঁপ
দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে।
কাচ
উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্র
ধরনের কাচ তৈরির চেষ্টা করছে,
যেগুলো মানুষের কাছে অভিন্ন
মনে হলেও পাখিরা ঠিকই
পার্থক্যটা ধরতে পারবে। সুইডেনের
উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের
পরিবেশবিজ্ঞানী আন্ড্রেস ওডিন
বলেন,
পাখিরা অতিবেগুনি রশ্মি দেখতে
কিন্তু মানুষ সেটা দেখে না।
পরিবেশবান্ধব জানালায় এ ধরনের
রশ্মি প্রতিফলনের উপাদান যুক্ত
থাকলে পাখিরা সেটা এড়িয়ে চল

http://itprojukti.com/archives/1897

মন্তব্যগুলি

মন্তব্যগুলি

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...