দাপটের সাথে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

টানা তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ১২৪ রানের জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। চলতি বছর ওয়ানডেতে মিরপুরে এটাই বাংলাদেশের প্রথম জয়।

বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২৯৭ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৩৯ ওভার ৫ বলে ১৭৩ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

জিম্বাবুয়ে দলে তিনটি পরিবর্তন এনে ব্যাটিং গভীরতা বাড়ালেও কোনো কাজ হয়নি। আরেকটি বড় হার এড়াতে পারেনি অতিথিরা।

মাশরাফি বিন মুর্তজার তোপে মাত্র ২২ রানে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ভুসি সিবান্দাকে হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় কখনোই সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি অতিথিরা।

দলে ফেরা শফিউল ইসলাম চোট পেয়ে বাইরে চলে গেলে আরেক পেসার রুবেল হোসেনের ওপর দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। সেই দায়িত্ব ভাল ভাবেই সামাল দিয়েছেন তিনি।

রুবেল দলে ফেরা টিমিসেন মারুমাকে ফিরিয়ে দেয়ার পর চতুর্থ উইকেটে সলোমন মায়ারকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন ব্রেন্ডন টেইলর।

মায়ারকে স্ট্যাম্পিং করিয়ে ৪১ রানের জুটি ভাঙেন আরাফাত সানি। পরের ওভারে ফিরে যান টেইলরও। সাকিব আল হাসানের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি।

রেগিস চাকাবভাকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেছিলেন এল্টন চিগুম্বুরা। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বলে চাকাবভা বোল্ড হয়ে গেলে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। অভিষিক্ত পিটার মুরকে এলবিডব্লিউ করে অতিথিদের বিপদ আরো বাড়ান রুবেল।

ব্যাটিং পাওয়ার প্লের প্রথম ওভারের (৩৬তম) শেষ দুই বলে নেভিল মাডিজিভা ও টিনাশে পানিয়াঙ্গারাকে বিদায় করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান সানি। চিগুম্বুরা সানির হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দিলেও দলের বড় হার এড়াতে পারেননি।

টাফাজওয়া কামনুগোজিকে বোল্ড করে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে চার উইকেট নেন সানি। আগের ম্যাচে ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন সানি। এবার ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড আরেকটু উজ্জ্বল করেছেন তিনি।

৫৩ রানে অপরাজিত থেকে যান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক চিগুম্বুরা।

এর আগে স্বাগতিকদের ভালো সূচনা এনে দেন এনামুল হক ও তামিম ইকবাল। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে শতরান করেন তারা।

প্রথম ওভারের শেষ বলে এগিয়ে এসে ছক্কা হাঁকিয়ে শুরুটা তামিম করলেও বাংলাদেশকে দ্রুত রান এনে দেয়ার কৃতিত্ব এনামুলের।

তামিমের (৪০) রান আউটে ভাঙে ২৫ ওভার ৫ বল স্থায়ী ১২১ রানের জুটি। দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে শেষ সময়ে তামিমের হাত থেকে ব্যাট পড়ে যায়। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়ার সময় তামিম দাগ পার হলেও পা ছিল শূন্যে। তাই টানা দ্বিতীয় ম্যাচে রান আউট হয়ে বিদায় নিতে হয় এই তাকে।

প্রথম ওয়ানডেতে তামিমের বিদায়ে ভেঙেছিল ১৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর দিক হারানো বাংলাদেশ কোনোমতে আড়াইশ’ পার হয়।

দ্বিতীয় উইকেটে ৩৯ রানের জুটি গড়ে মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে মুমিনুল হক ও এনামুলের বিদায়ে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে বাংলাদেশ। তিন নম্বরে ফেরা মুমিনুল (১৫) হ্যামিল্টন মাসাকাদজার বলে টিমিসেন মারুমার ক্যাচে পরিণত হন।

শতকের সম্ভাবনা জাগানো এনামুল ফিরেন ব্যাটিং পাওয়ার প্লের প্রথম বলে। টাফাজওয়া কামুনগোজির বলে বদলি ফিল্ডার শিঙ্গি মাসাকাজার হাতে ধরা পড়েন তিনি। ৯৫ রান করা এনামুলের ১২০ বলের ইনিংসটি ৯টি চারে সাজানো।

এনামুলের বিদায়ের পর পাওয়ার প্লেতে মাত্র ২৭ রান তুলে বাংলাদেশ। তবে এরপরই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৭২ রানের জুটি গড়েন তারা।

টিনাশে পানিয়াঙ্গারার এক ওভারে ফিরে যান সাকিব, মুশফিক। ৩৩ বলে ৪০ রান করেন চার নম্বরে নামা সাকিব। ভুসি সিবান্দার ওভারে স্লগ সুইপ করে ছক্কা হাঁকানো মুশফিক ২২ বলে করেন ৩৩ রান। সিবান্দার সেই ওভারে ১৮ রান নেন মুশফিক-সাকিব।

থিতু হওয়া দুই ব্যাটসম্যান ফিরে গেলেও তার কোনো প্রভাব পড়তে দেননি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সাব্বির রহমান। ৩০ বলে ৪৬ রানের জুটি গড়েন দুই অলরাউন্ডার।

নেভিল মাডজিভার বলে মারুমার ক্যাচে পরিণত হয়ে ফিরে যাওয়ার আগে মাত্র ১৩ বলে ২২ রান করেন সাব্বির। শেষ পর্যন্ত ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদুল্লাহ। তার ২৬ বলের ইনিংসটি সাজানো ৫টি চারে।

সাকিব-মুশফিকের পর মাহমুদুল্লাহ ও সাব্বিরের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ ১০ ওভারে ১০৩ রান তুলে বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের পানিয়াঙ্গারা ২ উইকেট নেন ৫৪ রানে।

এটি বাংলাদেশের ষোড়শ সিরিজ জয়; জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অষ্টম। ২০১০ সালের পর এই প্রথম জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জিতল তারা।

সোর্সঃ ইন্টারনেট

No Responses

Write a response