টেলিভিশন ও বেতারের জন্যে সম্প্রচার নীতিমালার অনুমোদন

সম্প্রচার নীতিমালা গণমাধ্যমের টেলিভিশন ও বেতারের জন্যে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার খসড়া সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন করা হয়েছে। এই নীতিমালার আওতায় সম্প্রচার আইন তৈরি এবং একটি স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে এই নীতিমালা নিয়ে সম্প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে জড়িতরা উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন যে এটি কণ্ঠ চেপে ধরার সুযোগ করে দেবে।

দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশনের সংখ্যা সব মিলিয়ে ২৪টি। আর বেতার চালু রয়েছে ১০টিরও বেশি।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জানান, বিকাশমান অবস্থায় থাকা সম্প্রচার মাধ্যম এখন বিছিন্ন, বিক্ষিপ্ত কিছু আইন, বিধি আর চুক্তি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফলে এখানে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। আর তাই গ্রাহক, সাংবাদিক, মালিক এমনকি রাষ্ট্রের স্বার্থ প্রায়ই লঙ্ঘিত হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সম্প্রচার নীতিমালা সেই ঘাটতি পূরণ করবে মনে করেন মন্ত্রী।

কিন্তু এই নীতিমালা অনুমোদনের আগেই এটি নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। সবচেয়ে বেশী নজর দেয়া হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী বা আইন-শৃংখলার কাজে নিয়োজিতদের সম্পর্কে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে।

হাসানুল হক ইনু এ সম্পর্কে বলেন, ”সশস্ত্র বাহিনীর ব্যাপারে সমালোচনা অ্যালাউড – বিদ্রূপ, কটাক্ষ না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী – যারা অপরাধ দমনের কাজে নিয়োজিত — তাদের ব্যাপারে বিদ্রূপ, কটাক্ষ এবং মানহানিকর বক্তব্য না দেয়ার জন্যে বলা হয়েছে।”

এটি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রচার আইনে এটি ঠিক করে দেয়া হবে।

বিদ্রোহ, নৈরাজ্য, হিংসাত্বক ঘটনা প্রচার করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে সম্প্রচার নীতিমালায়।

মন্ত্রী মি. হক বলেন, সংবিধানে যেসব বিধি-নিষেধ রয়েছে, সেগুলো মেনেই সম্প্রচার নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যে ১৪টি শর্তে টেলিভিশনের লাইসেন্স দেয়া হয়, সেই শর্তগুলোর বাইরে নতুন কিছু নেই।

তবে বেসরকারি টেলিভিশনের ৭১’এর পরিচালক বার্তা সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা মনে করেন, যেসব শর্তে টেলিভিশনের লাইসেন্সে দেয়া হয়, সেগুলো স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্যে সহায়ক নয়, এবং নতুন নীতিমালা পরিস্থিতি আরো খারাপ করবে।

তিনি বলেন, ”বলা হয়েছে অপরাধীর দণ্ড দিতে পারেন এমন কর্মকর্তা সম্পর্কে কিছু বলা যাবে না। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা সবাই তো কোনো না কোনো ভাবে শাস্তি দিতে পারেন। কেউ যদি নৈরাজ্যে লিপ্ত হয়, তাহলে কি সেটি নিউজ নয়?”

বেসরকারি এবিসি রেডিও’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সানাউল্লাহ লাবলু ধারণা করেছেন, নতুন সম্প্রচার নীতিমালার কারণে টক শোগুলো বেশি সমস্যায় পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ”টক শোগুলোতে রাজনীতিবিদরাই অধিকাংশ সময়ে কথা বলেন। এক পক্ষের বক্তব্য প্রচার না করলে বলা হয় আমরা এক দিকে হেলে যাচ্ছি। দুটো প্রচার করলে দেখা যায় প্রচুর অসত্য বক্তব্য রয়েছে।”

লাবলু বলেন, ”আমরা বিচার করার দায়িত্ব ছেড়ে দিই পাঠক বা শ্রোতার কাছে। কিন্তু এই বিচার বিবেচনা করার দায়িত্ব যদি শুধুমাত্র সরকারের হাতে চলে যায়, তাহলে এটা অপব্যবহারের একটা আশঙ্কা থেকে যায়।”

তথ্যমন্ত্রী অবশ্য বলছেন, সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেয়া হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ভারত, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের আইন খতিয়ে দেখা হয়েছে।

তিনি জানান সম্প্রচার নীতিমালার আওতায় সবার সঙ্গে আলোচনা করে কমিশন গঠন করা হবে। ওই কমিশন হবে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, যার গঠন হবে সার্চ কমিটির মাধ্যমে। এর একজন চেয়ারম্যান এবং তিন বা পাঁচ জন সদস্য থাকবেন।

তবে কমিশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নীতিমালা প্রয়োগের দায়িত্বে থাকবে তথ্য মন্ত্রণালয়।– বিবিসি।

No Responses

Write a response