‘টেক্সট নেক’ দ্রুত ‘মহামারি’ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে এই রোগ ! রোগী সনাক্ত হলে জরিমানা !

z2

অনেকক্ষণ ধরে মাথা নিচু করে নিচের দিকে তাকিয়ে আছেন। স্মার্টফোনে ফেসবুক দেখছেন, মেইল চেক করছেন। বন্ধুদের পাঠানো ‘টেক্সট’ দেখছেন, উত্তর দিচ্ছেন। সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা-রাত—এভাবেই কাটছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দিন দিন এতেই অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি আমরা। কিন্তু গবেষকেরা বলছেন, এ অভ্যাস মেরুদণ্ডের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ সমস্যা থেকে তৈরি রোগের নাম ‘টেক্সট নেক’। বুধবার দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদন সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য ।

যুক্তরাষ্ট্রের এক চিকিৎসকের করা গবেষণায় উঠে এসেছে ‘টেক্সট নেক’ রোগ বিস্তারের ভয়াবহ চিত্র। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুবই দ্রুত ‘মহামারি’ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে এই রোগ। ডক্টর কেনেথ হানসরাজ বলেন, আমরা যে ভঙ্গিতে ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকি তা ঘাড়ের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করে। দীর্ঘ সময় এভাবে ঘাড় নিচু করে তাকিয়ে থাকলে মেরুদণ্ডে যে সমস্যা হবে তা থেকে মুক্তি পেতে এমনকি অস্ত্রোপচারও লাগতে পারে।

কেনেথ হানসরাজ জানান, আমাদের মাথার ওজন ১০ থেকে ১২ পাউন্ডের মতো। কিন্তু মাথা নিচু করে ফোনের দিকে তাকানোর সময় আমাদের ঘাড় প্রায় ১৫ ডিগ্রি কোণে বাঁক নেয়। এ সময় মাথার ওজন প্রায় ২৭ পাউন্ডের মতো হয়ে যায়। আর ৬০ ডিগ্রি বাঁক নিলে এই ওজন হয়ে যায় প্রায় ৬০ পাউন্ডের মতো। কেনেথের গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা দিনে গড়ে দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘাড় নিচু করে ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকে। সেই হিসাবে তাদের কার্ভিকাল স্পাইনে বছরে ৭০০ থেকে এক হাজার ৪০০ ঘণ্টা অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।’ এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে।

যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড সোসাইটি অব ফিজিওথেরাপির স্যামি মারগোও মনে করেন, ‘টেক্সট নেক’ নামের এই স্বাস্থ্যসমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। স্যামি বলেন,‘মানুষজন যেন টেক্সটনির্ভর জীবনযাপন করছেন। তাঁরা বুঝতে পারছেন না যে, এ থেকে তাঁদের একটু দম নেওয়া দরকার।’

স্যামি বলেন, ফোন ব্যবহারের এই সমস্যা থেকে মাথাব্যথা, ঘাড় ব্যথা, হাতের ব্যথা এবং মানসিক নিস্পৃহতা তৈরি হতে পারে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘সাধারণভাবে সামনের দিকে তাকানো অবস্থায় ঘাড় এবং মেরুদণ্ড যথাযথ বিন্যাসে থাকে। কিন্তু থুতনিটা নিচু করে বুকের কাছে ঠেকিয়ে দীর্ঘক্ষণ নিচের দিকে তাকিয়ে থাকলে অতিরিক্ত বাঁকের কারণে পুরো কাঠামোতেই চাপ পড়ে।’

এ সমস্যা থেকে বাঁচতে টেক্সটনির্ভরতা কমিয়ে প্রয়োজনে ফোন কল করার পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের এই ফিজিওথেরাপিস্ট। আর যদি ফোনে টেক্সট করা বা অনলাইনে নজর বোলাতেই হয় তাহলে নিয়মিতভাবে বিরতি নেওয়ার বিষয়েও জোর দিয়েছেন তিনি।

মোবাইল ফোনে মেসেজ আদান-প্রদান করা বা ‘টেক্সট’ করা নিয়ে এ ধরনের সতর্কতা এটাই প্রথম নয়। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দুর্ঘটনায় পথচারীদের মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে চলার পথে টেক্সট করার প্রবণতাকেই চিহ্নিত করা হয়। এ প্রবণতা রুখতে বেশ কয়েকটি শহরে রাস্তায় হাঁটার সময় টেক্সট করলে জরিমানার বিধান রেখে আইন করা হয়েছে।

No Responses

Write a response