গুগল ভেঙে যাবে?

ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে গুগলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে যাচ্ছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। তৈরি হয়েছে একটি খসড়া প্রস্তাবও। ওই খসড়ায় ইউরোপে গুগলের বাকি ব্যবসা থেকে সংস্থাটির সার্চ ইঞ্জিনকে আলাদা করার প্রস্তাবও রয়েছে।
image

ইউরোপ থেকে ওয়েবে যত অনুসন্ধান করা হয় তার ৯০ শতাংশই হয় গুগল ব্যবহার করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুগল সার্চ বা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও এতটা ক্ষমতাধর নয়।
বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা ইউরোপে গুগলের ক্ষমতা কমানোর একটি খসড়া প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেবেন।
র‌্যামন ট্রিমোসা নামের একজন পার্লামেন্ট সদস্য এই খসড়া প্রস্তাবটি আনছেন। গুগলের আধিপত্য প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘এটা একচেটিয়া, আমাদের প্রযুক্তি ব্যবসাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’
এই খসড়া প্রস্তাবে ‘গুগলের অবৈধ ও পক্ষপাতমূলক আচরণ’ বন্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, গুগলের ব্যবসার জন্য যেটা সুবিধা হয়, সেভাবেই অনুসন্ধানে ফল দেখানো হয় এবং র‌্যাংকিং করা হয়। এতে ব্যবহারকারীর কথা ভাবা হয় না। এ ছাড়া এ প্রস্তাবে অনলাইন বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

গুগলের র‌্যাংকিং অ্যালগরিদম সরিয়ে ফেলে ক্রমপরিবর্তনশীল অনুসন্ধান ফল দেখানো কিংবা ইউরোপে গুগলের কার্যক্রম আলাদা করতে বাধ্য করার কথা ভাবছে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্যরা।
অবশ্য বৃহস্পতিবার যদি ভোটে পাস হয়ে যায়, তার পরও এ খসড়া প্রস্তাবটি শুধু সুপারিশ হিসেবে গৃহীত হবে। ইউরোপিয়ান কমিশন যদি এই সুপারিশ মেনে নেয়, তবেই গুগলকে ইউরোপে তাদের নীতি বদলাতে বাধ্য করা যাবে।

এই প্রসঙ্গে গুগল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স অবশ্য জানিয়েছে, ওই খসড়ায় গুগল বা অন্য কোনো সার্চ ইঞ্জিনের নাম স্পষ্টভাবে বলা নেই। কিন্তু ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য যে গুগল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের মতে, এমনিতে এ বিষয়ে নতুন করে আইন তৈরির ক্ষমতা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নেই। এখতিয়ার নেই কোনো সংস্থাকে টুকরো করার। এমনকি নিজেদের তৈরি প্রস্তাব গুগলকে মানতে বাধ্যও করতে পারে না তারা।
কিন্তু তাতে কী? গুগলের বিরুদ্ধে এত বড় পদক্ষেপ নিলে নিশ্চয়ই চাপ বাড়বে। এ ছাড়া গুগলকে ভেঙে ফেলতে ইউরোপীয় কমিশনের ওপরও চাপ বাড়বে।
গুগল কর্তৃপক্ষ এমনিতেই ইউরোপের বাজারে স্বস্তিতে নেই। এর আগে কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে আবার কখনো অভিযোগ উঠেছে প্রাইভেসি না মানার বিষয়টি নিয়েও। গুগলের একচেটিয়া ব্যবসা নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। এসব অভিযোগদাতার মধ্যে মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে।
গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও গত অক্টোবর মাসে গুগলের চেয়ারম্যান এরিক স্মিড বলেছিলেন, ‘যারা গুগলের দিকে একচ্ছত্র আধিপত্যের অভিযোগ তোলে তারা এ ক্ষেত্রটি ঠিকমতো বুঝতে পারেনি বলেই এই অভিযোগ তোলে। বাস্তবতা হচ্ছে, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো নজরদারি বা ধরাবাঁধা কাজকর্মের পদ্ধতির চেয়ে গুগল সম্পূর্ণ আলাদা পন্থায় কাজ করে। আমরা কোনো ফেরি বা রেললাইন নয় কিংবা টেলিকম নেটওয়ার্ক বা বৈদ্যুতিক গ্রিড নই যে আপনার বাড়িতে একটি লাইন হিসেবে গিয়ে অন্য কোনো লাইন ঢুকতে দেব না। এখন কেউ আর শুধু গুগল ব্যবহার করেই সীমাবদ্ধ থাকে না।’ (সিএনএন ও রয়টার্স)

No Responses

Write a response