গুগল কি সুধুই সার্চ ইঞ্জিন ? নাকি আরও কিছু !!

৯৯৬ সালে থিসিস হিসাবে ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি কোর্সের ছাত্র ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন এর কাজ শুরু করেন। ওই থিসিসের মুল লক্ষ ছিল তখনকার সময়ের চেয়ে নতুনও আধুনিক কোন একটা সার্চ ইঞ্জিন যদি বানানো , যা ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যেকার সম্পর্ক থেকে ফলাফল নির্ণয় করে তুলনা মূলক ভালো ফলাফল তুলে ধরবে।

১৯৯৮ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৪ সালের ১৯শে আগস্ট এটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়। সময়ের সাথে নিত্যনতুন পণ্য ও সেবা যোগ করে গুগল প্রতিনিয়ত নিজেদের আকার ও উপযোগিতা বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। একই সাথে নতুন কোম্পানি কিনে নিজেদের সাথে একীভূতকরণ, ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব ও বিজ্ঞাপন জগতে নিজেদের অবস্থানকে সুদৃঢ়ীকরণের মাধ্যমে নিজেদের বহুমুখিতাকে সমৃদ্ধ করেছে। ফলে তথ্য খোঁজার পাশাপাশি বর্তমানে ইমেইল, সামাজিক নেটওয়ার্কিং, ভিডিও শেয়ারিং, অফিস প্রোডাক্টিভিটি, প্রভৃতি বিষয়ে গুগলের সেবা রয়েছে। এখন কি মনে হচ্ছে গুগল কি সুধুই সার্চ ইঞ্জিন নাকি অনেক অনেক কিছু ।

google

google

১৯৯৫ সাল থেকে ২১০ পর্যন্ত গুগলের প্রোডাক্ট

গুগল ইনকর্পোরেটেড ইন্টারনেট ভিত্তিক বেশকিছু সেবা, উন্নয়ন এবং হোস্ট করে। প্রাথমিকভাবে এটি এডওয়ার্ডস মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্থ আয় করে। এর প্রধান কার্যালয় ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেইন ভিউ শহরে অবস্থিত। গুগলের মূলমন্ত্র হল “বিশ্বের তথ্য সন্নিবেশিত করে তাকে সবার জন্য সহজলভ্য করে দেয়া” । গুগলের অপ্রাতিষ্ঠানিক মূলমন্ত্র হল “Don’t be evil” । গুগল প্রথম ইনকর্পোরেট হয় প্রাইভেট কোম্পানী হিসেবে ১৯৯৮ সনের ৪ই সেপ্টেম্বর এবং এর প্রাথমিক শেয়ার (আইপিও) ছাড়া হয় ২০০৪ সনের ১৯শে আগস্ট। সেই সময় ল্যারি পেইজ, সের্গেই ব্রিন এবং এরিক স্কমিট গুগলে ২০ বছেরর জন্য একসাথে কাজ করতে একমত হন। ২০০৬ সালে, কোম্পানিটি মাউন্ট ভিউতে স্থানান্তরিত হয়।

সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল বাজার মূল্যের দিক থেকে মার্কিন শীর্ষস্থানীয় তেল কোম্পানি এক্সনমবিলকে পেছনে ফেলে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। খবর এএফপি’র। গুগলের ওপরে রয়েছে মার্কিন আরেক হাই-টেক কোম্পানি অ্যাপল। সোমবার গুগলের শেয়ারের দাম ০.৩৮ শতাংশ পড়ে গেলেও দিনশেষে তার বাজার মূল্য দাঁড়ায় ৩৯৪ বিলিয়ন ডলার (৩৯৪০০ কোটি ডলার বা ৩২ লাখ ৩০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, সংখ্যায় লিখতে গেলে ৩২,৩০,৮০০,০০,০০,০০০)। গুগলের সম্পদ কত তা বোঝার জন্য ভালো একটি উদাহরণ হতে পারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রায় ১৬ কোটি মানুষ এক বছরে যা উৎপাদন করে তার মোট বাজার মূল্য বা জিডিপির চেয়েও বেশি সম্পদ গুগলের। ২০১২ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ৩০৬ বিলিয়ন ডলার। গুগলের পরে স্থান পাওয়া এক্সনমবিলের মোট সম্পদ ৩৮৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে অ্যাপলের মোট সম্পদ ৪৭২ বিলিয়ন ডলার। ২০১২ সালের জুলাই মাসের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক গুগলের সম্পদ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। গুগলের ৯৯% আয় আসে বিজ্ঞাপন খাত থেকে। ২০০৬ অর্থবছরে, কোম্পানী জানায় ১০.৪৯২ বিলিয়ন বিজ্ঞাপন থেকে এবং লাইসেন্স ও অন্যান্য খাত থেকে ১১২ মিলিয়ন আয় হয়। গুগল অনলাইন বিজ্ঞাপন বাজারে বিভিন্ন নতুন মাত্রা যোগ করে এবং অন্যান্যদের তুলনায় এগিয়ে থাকে। ডাবলক্লিক কোম্পানীর প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুগল ব্যবহারকারীদের আগ্রহ অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে । গুগল এন্যালিটিকস এমন একটি প্রযুক্তি যা ওয়েব সাইটের মালিকগন ব্যবহার করে থাকেন কোথায় এবং কিভাবে মানুষ তাদের ওয়েব সাইট ব্যবহার করে থাকেন, উদাহরণ সরূপ বলা যায়, কোন পৃষ্ঠার সকল লিংকের মধ্যে কোনগুলোতে ক্লিক বেশি পড়েছে তা জানা যায় ক্লিক রেটের মাধ্যমে। গুগল দুটি পদ্ধতিতে তাদের বিজ্ঞাপনগুলো বিভিন্ন থার্ড-পার্টি ওয়েব সাইটে রাখার সুযোগ দেয়।

গুগল সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন ডেটা সেন্টারে প্রায় এক মিলিয়ন সার্ভার চালায় ও এক বিলিয়নের উপর সার্চের অনুরোধ এবং প্রায় ২৪ পেটাবাইট ব্যবহারকারী কতৃক তেরী ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করে প্রতিদিন । ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর অনুযায়ী এলেক্সা আমেরিকার সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা ওয়েবসাইটের তালিকায় স্থান দেয় গুগলকে। এছাড়াও গুগলের অন্যান্য আর্ন্তজাতিক সাইট যেমন ইউটিউব, ব্লগার এবং অরকুট, সেরা একশটি সাইটে স্থান পায়। ব্রান্ডয্ তাদের ব্রান্ড ইকুইটি ডাটাবেজে গুগলকে ২য় স্থান দেয় । গুগলের আধিপত্য বিভিন্ন সমালোচনার জন্ম দিয়েছে যেমন কপিরাইট, গোপনীয়তা এবং সেন্সরশিপ প্রভৃতি।

No Responses

Write a response