গিনেস বুক অফ ওয়াল্ড রেকডস>>নেকড়ে কণ্যা

এই পোস্ট 4 of 24 পর্বে অন্তর্ভুক্ত গিনেস বুক অফ ওয়াল্ড রেকডস



নেকড়ে কন্যা বা বাঁদরমুখো বলে কেউ কেউ
তাকে খেপানোর চেষ্টা করলেও বিশ্বের
সবচেয়ে লোমশ বালিকার খেতাব
পেয়ে আনন্দিত ১১ বছরের থাই
কন্যা সুপাত্রা সাসুফান। ব্যাঙ্ককের
বাসিন্দা সুপাত্রা স্কুলে সহপাঠীসহ অন্যদের ঠাট্টা বিদ্রূপ আর তামাশার শিকার
হলেও গিনেস বুকে স্থান পাওয়ায় তার কদর
বেশ বেড়ে গেছে। মুখসহ শরীরের এ
অনাকাঙ্ক্ষিত লোমের কারণেই গিনেস বুক
কর্তৃপক্ষ
তাকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সুপাত্রা বলেছেন, গিনেস বুকে স্থান
পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। পৃথিবীর অনেক
মানুষ গিনেস বুকে স্থান পেতে কত কিছুই
না করে থাকে। আমি কেবল তাদেরকে কিছু
প্রশ্নের জবাব দিয়েছি আর তাতেই
তারা আমাকে এ স্বীকৃতি দিয়েছেন। মধ্যযুগ থেকেই হাতেগোনা কয়েকজন হরমোনের
ত্রুটির কারণে অ্যাম্ব্রাস সিনড্রোম নামের
বিরল এ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এ সমস্যার আক্রান্ত ৫০ জনের
মধ্যে সুপাত্রা একজন। এ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক
কারণ জানার আগে একে মানুষ ওয়ারউলফ
(নেকড়ে রূপান্তরিত মানব সন্তান)
বলে অভিহিত করতো। তবে এ রোগে আক্রান্ত
বেশির ভাগ মানুষকে লাঞ্ছনা-গঞ্জনার মধ্য দিয়ে জীবন কাটাতে হলেও
সুপাত্রাকে সমাজের মানুষ ক্রমেই
সাদরে গ্রহণ করছে। সমাজে তার
আলাদা একটা জনপ্রিয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
সুপাত্রা বলেছে, কেউ কেউ
আমাকে আগে বাঁদরমুখো বলে খেপালেও এখন আর খেপায় না। আমি এখন এ অস্থাতেই
থাকতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। লোমের
কারণে আমি কোন ধরনের সমস্যা বোধ
করি না। তবে এগুলো বড় হয়ে গেলে দেখতে খুব
খারাপ লাগে। আমি মনে করি, একদিন
আমি ভাল হয়ে যাবো। তার বয়সী অন্য শিশুর মতোই সুপাত্রা নাচতে আর সাঁতার
কাটতে ভালবাসে। সংগীত তার খুবই পছন্দ।
সে সব সময়ই তার বন্ধুদের
সঙ্গে খেলতে ভালবাসে।
তবে সে সবচেয়ে বেশি ভালবাসে টেলিভিশনে কার্টুন
দেখতে। সুপাত্রার শরীরের অস্বাভাবিক লোম যাতে কোন ভাবেই তার দৈনন্দিন
জীবনযাত্রাকে ব্যাহত
না করে সে বিষয়ে সে সব সময়ই সচেতন।
সুপাত্রা বলেছে, সব সময়ই সে অঙ্ক কষতে খুব
ভালবাসে। অন্যকে অঙ্ক শেখানোর জন্যই সে এটি খুব
ভালভাবে রপ্ত করতে চাইছে। তবে তার
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে ডাক্তার হওয়া।
অসুস্থদের সেবা করার জন্যই ডাক্তার
হতে ইচ্ছুক সুপাত্রা। তবে সুপাত্রার ভবিষ্যৎ
খুব একটা ইতিবাচক বলে মনে হচ্ছে না। কেন না জন্মের পরপরই তাকে শ্বাস-প্রশ্বাস
স্বাভাবিক করার জন্য দু’বার অপারেশন
টেবিলে যেতে হয়েছে। সুপাত্রার
পিতা সামরুয়েং বলেছেন, জন্মের পরপরই তার
শরীরে বিশেষ অবস্থা লক্ষ্য করেছি। কিন্তু
হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনার পর মেয়েকে নিয়ে নতুন সমস্যায় পড়েছি। লোকজন
তাকে প্রশ্ন করতে শুরু করে কোন পাপের
শাস্তি হিসেবেই ঈশ্বর হয়তো তাকে এ ধরনের
শাস্তি দিচ্ছেন। মেয়ের ভবিষ্যৎ
নিয়ে পিতা চিন্তিত হলেও তার বড়
মেয়ে বিষয়টিকে সমাজে বেশ সহজে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে সফল
হয়েছে। নিজের বয়সী অন্যান্য ছোট শিশুর
মতোই সুপাত্রার অনেক বন্ধু রয়েছে। কিন্তু
তার দাঁত উঠেছে বেশ দেরিতে। এ
ছাড়া চোখেও ভাল দেখতে পায় না। দু’ বছর
বয়সে ডাক্তাররা লেজার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে সুপাত্রার লোম পরিষ্কার করার
চেষ্টা করেছে। কিন্তু লোম পরিষ্কার করার
পরপরই দ্রুত আরও ঘন হয়ে গজিয়ে ওঠে। লোম
বেশি লম্বা হয়ে গেলে মা সাম্ফনই
সেগুলো ছেঁটে ছোট করে দেন। বড়দের শ্যাম্পু
সহ্য না হওয়ায় ছোটদের শাম্পু ব্যবহার করে সুপাত্রা তার লোম পরিষ্কার করে থাকে।
সামেরুয়েং বলেছেন, আমরা আশায় আছি একদিন
সুপাত্রা ভাল হয়ে যাবে। তার সেরে ওঠার
জন্য আমরা সাধ্যমতো সব কিছুই করবো।

1

No Responses

Write a response