খারাপ বন্ধুর বৈশিষ্ট্য , ১০টি স্বভাবে আপনি হবেন বন্ধুহারা এবং মনের মত বিপরীত লিঙ্গের বন্ধু খুজার পদ্ধতি (বন্ধুদিবসের মেগা পোস্ট)

বন্ধুত্ব ছাড়া বাঁচা সত্যিকার অর্থে দুরূহ। সুখ-দুঃখে পাশে থেকে আপনাকে সাহস যুগিয়ে যায় কে- বন্ধু। তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে, বন্ধুই পারে হাসাতে আবার বন্ধুই পারে কাঁদাতে। বন্ধুত্ব করার সময় বন্ধুটি সম্পর্কে ভাল ভাবে জেনে বন্ধুত্ব করুন।

ভাল খারাপ মিলিয়ে মানুষ। তারপরও একজনের খারাপ দিক যদি আপনার ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে তবে সচেতন হতেই হয় বৈকি! তাই বন্ধুত্বের পাঁচটি খারাপ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হল। দেখুন, আপনার কোন কোন বন্ধুর মধ্যে এই স্বভাব গুলো আছে।

খারাপ বন্ধুর বৈশিষ্ট্যঃ

আপনার বন্ধু কী বিপদ আপদে আপনার পাশে থাকে?

দুর্দিনে পাশে থাকে যেই জন, ভাল বন্ধু সেই জন। এই জন্য বলা হয়, বিপদ আপদে বন্ধু চেনা যায়। ভেবে দেখুন কারা ইচ্ছাকৃত ভাবে আপনার বিপদে অথবা গুরুত্বপূর্ণ কাজে পাশে ছিল না। জেনে রাখুন, আদতে তারা আপনার ভাল বন্ধু নয়। ভাল বন্ধু মাত্রই বিপদে পাশে থাকবে।

আপনার বন্ধু কী অতীতের কোন ভুল আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করে?

প্রত্যেক মানুষের জীবনে ভুল ভ্রান্তি থাকে। পরিবেশ পরিস্থিতি অথবা নিজের ভুলের কারণে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে। তবে সেই ভুলকে যে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করে কুৎসা রটনা করে, সেও ভাল বন্ধু নয়। বিশ্বাস করে যাকে বলেছেন সে আপনার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারলো না।

আপনার বন্ধু কী আপনার সাথে অন্য বন্ধুর সমালোচনা করে?

যে বন্ধু অন্যের সম্পর্কে আপনার কাছে সমালোচনা করে, নিশ্চিত থাকুন, অন্যের কাছেও সে আপনার সমালোচনা করবে। ভাবতে খারাপ লাগছে? এটাই সত্যি। পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। এমন বন্ধু অবশ্যই কারো কাম্য নয়।

আপনার বন্ধু কী আপনার উপকার করে খোঁটা দেয়?

বন্ধুত্ব মানেই একজন আরেক জনের জন্য অনেক কিছু করবে। একজন অন্যজনকে উপহার দেবে। কিন্তু যে বন্ধু আপনাকে এই বলে খোঁটা দেয় যে, সে আপনার জন্য এটা ওটা করেছে, তবে নিশ্চিত ভাবে সে আপনার ভাল বন্ধু নয়। বন্ধুর জন্য বন্ধু কিছু করবে নিঃস্বার্থ ভাবে। যে উপকার করে তার প্রতিদান যে চায় সে হিসেবী, হিসাব করে বন্ধুত্ব হয় না।

আপনার বন্ধু কী আপনার সাথে সৎ?

ভাল বন্ধু অবশ্যই আপনার সাথে সৎ থাকবে। যে সৎ থাকল না সে আপনাকে ভাল বন্ধুই মনে করতে পারলো না। এমন সম্পর্ক ভাল বন্ধুত্বের জন্য সহায়ক নয়। উপরন্তু তাকে বিশ্বাসও করা যাবে না।

ভাল ভাবে ভেবে দেখুন, বন্ধুদের মধ্যে কাদের এই খারাপ বৈশিষ্ট্য গুলো আছে। নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, তারা আপনার ভাল বন্ধু নয়। তবে কঠোর হওয়ার আগে তাদের দোষ গুলো দূর করার চেষ্টা করতে পারেন। যদি সে বুঝতে পেরে সংশোধিত হয় তবে একজন বন্ধু হারালেন না। একজনের খারাপ দিক তুলে ধরে তাকে ভাল হওয়ার সুযোগ করে দিলেন। তবে যদি সে আগের মত থেকে যায় তবে সিদ্ধান্ত আপনার।

১০টি স্বভাবে আপনি হবেন বন্ধুহারাঃ

বন্ধু-বান্ধবসহ পরিচিত মহলকে নিয়ে মেতে থাকতে চান আপনি। কিন্তু প্রাণান্তকর চেষ্টার পরও তারা আপনার কাছ থেকে শুধু দূরেই সরে যায়। এর কারণ কিন্তু আপনার মধ্যেই প্রোথিত। বিশেষজ্ঞরা ১০টি বৈশিষ্ট্যের কথা বলছেন, যার কারণে আপনার বন্ধুমহল দূরে সরে যাবে এবং আপনি মানুষের কাছে হয়ে উঠবেন বিরক্তিকর।
১. বেখেয়ালে অন্যের সময় নষ্ট করা
দেখা-সাক্ষাৎ ও মিটিংয়ে আপনার দেরিতে উপস্থিতির কারণ হিসেবে ‘জরুরি’ কাজের ফিরিস্তি তোলেন। অফিসে জার থেকে বোতলে পানি ভরতে আপনার তিন মিনিট সময় লাগে এবং এ সময় অন্যরা অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকেন। ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে বাজার-সদাই শেষে ক্রেডিট কার্ডটি খুঁজে বের করতেই পিছে লাইন লেগে যায়, কিন্তু তা খুঁজেই পাচ্ছেন না আপনি। এসব ছোট ছোট বিষয় রয়েছে যা আপনার চারপাশের মানুষের মধ্যে বিরক্তির উদ্রেক করে। আপাতদৃষ্টিতে এসব ছোট খাটো বিষয় মনে হলেও এগুলোই বড় আকার ধারণ করে আপনাকে একা করে দেবে।
২. নিজের সামাজিক অবস্থানের বাইরের মানুষকে উপেক্ষা করা
কোনো প্রতিষ্ঠানে গেলে যার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন, তার সঙ্গে কথা বলতে হয়। আপনার পরিবার-পরিজনের মহলে কোনো অনুষ্ঠান হলে সেখানে সবার সঙ্গে আপনার মিশতে হবে। সামাজিক মর্যাদার দিক থেকে আপনার সমপর্যায়ের বা ওপরে যারা আছেন, শুধু তাদের সঙ্গেই আপনি সামাজিকতা রক্ষা করলে আপনি আপনজনদের থেকে দূরে সরে যাবে।
৩. আপনি অতিরিক্ত দাবি করেন
ধরুন, অপরিচিত একজন আপনার কাছে একটি কাজে সাহায্য চেয়ে বসলো যা আপনার বেশ সময় নষ্ট করবে। আপনি হাসি মুখে ভদ্রভাবে তা ত্যাগ করলেন। কিন্তু ওই ভদ্রলোক যখন এক তোড়া টাকা আপনার সামনে তুলে ধরলেন, তখন আপনারও মনে হলো, কাজটি আপনার করে দেওয়া দরকার। এখানে চাহিদাই আপনার সমস্যা। মানুষ মূলত অন্যকে সাহায্য করতে শেখে যখন তারা নিজেকে সাহায্য করতে শেখে। আর সেই মানুষগুলো বন্ধুত্বপূর্ণ হন যারা অন্যকে সাহায্য করতে পারে।
৪. কারো প্রয়োজনের সময় এড়িয়ে চলা
হতে পারে কারো প্রয়োজনের সময় তাকে সাহায্য করার অবস্থা আপনার নেই। যতো ছোট বা বড়ই হোক, কিছু না করতে পারলেও এগিয়ে আসাটাই অনেক কিছু। আর এই পরোপকার প্রবণতার কারণে মানুষও আপনাকে সাহায্য করবে।
৫. আপনি প্রশ্ন করেন নিজে কথা বলার জন্য
কিছু মানুষ আছেন, যারা অন্যকে প্রশ্ন করেন নিজে কিছু বলার জন্য। ধরুন, বন্ধুকে নিয়ে আপনি রেস্টুরেন্টে বসেছেন, খাচ্ছেন এবং কথা বলছেন। বন্ধুকে প্রশ্ন করলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক অবস্থা কোন দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে?’ বন্ধু শুরু করলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে…’। বন্ধু দুই শব্দ বলতেই আপনি কথা কেড়ে নিয়ে শুরু করলেন, ‘ভুল, আমি মনে করি…।’ কোনো বিষয়ে কিছু চাইলে অন্যের বক্তব্যও শুনতে হবে। এভাবে প্রশ্ন করে কারো মতামত জানতে চেয়ে নিজে বলাটা অশোভন। মানুষ সেই সব মানুষকেই পছন্দ করেন যারা পরস্পরের প্রতি আগ্রহ দেখায়।
৬. কথা প্রসঙ্গে বলা ‘আপনি জানেন আমি কে?’
এভাবে হয়তো আপনি নিজের পরিচয়টিই দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু আপনার বক্তব্যে মনে হলো, যে বিষয়ে বলতে যাচ্ছেন তাতে আপনিই সেরা। এসব ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান মানুষের কাছে বাড়বে না। বরং কমবে। আপনার জনপ্রিয়তার কারণে মানুষের কাছেই আপনি বিশেষ কেউ হয়ে উঠবেন। কিন্তু আপনি কে তা নিজে জাহির করতে যাওয়ায় হিতে বিপরীত হবে।
৭. নিজের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরতে ব্যস্ত থাকা
হঠাৎ করে মজার কিছু করা সবাইকে এক চোট আনন্দ দেয়। এতে আপনার সেন্স অব হিউমারের জাদু দিয়ে অন্যের মানসিক অশান্তি এবং মন খারাপ ভালো করে দিতে পারেন আপনি। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান-বুদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। অনেক পরিবেশ-পরিস্থিতিতে এভাবে নিজের ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা বিরক্তিকর বিষয় হয়ে ওঠে।
৮. অন্যের সঙ্গে নিজের গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তোলা
কোনো একজনকে নিয়ে একটু মজা করে আপনি পরিবেশটিই মজার করে দিলেন। কিন্তু অন্য কেউ আপনার সঙ্গে এমন করলেই আপনি ভাব দেখালেন, এ জন্য আপনার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন ছিলো। কিছু পরিবেশ ও পরিস্থিতি থাকে যখন এই গাম্ভীর্য প্রকাশের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু বন্ধুদের আড্ডায় বা হাসি-খুশী অনুষ্ঠানে এই গাম্ভীর্য মানায় না।
৯. মেকি অহংকার দেখানো
মাঝে-মধ্যে কিছু দম্ভোক্তি বা বড়াই করে নিজেকে জাহির করলেন যা আসলে ধারণ বা বহন করেন না আপনি। এটি আসলে নিজের সঙ্গে প্রতারণা করা। নিজের যা নেই তা নিয়ে অহংকার দেখানোটা গোপন থাকে না। যদি অহংকার দেখানোর মতো কিছু করে থাকেন, তবে অন্যরাই আপনাকে অহংকারবোধের সুযোগ করে দেবেন।
১০. আপনি নিজের মতামত চাপাতে চেষ্টা করেন
মতামত সঠিক এবং যৌক্তিক হলে আপনি তা নিয়ে বিতর্ক চালাতে পারেন। কিন্তু সব সময় নিজের মতামত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা অন্যকে বিরক্ত করবে।
সূত্র : ইয়াহু

মনের মত বিপরীত লিঙ্গের বন্ধু খুজার পদ্ধতিঃ

বন্ধু ছাড়া সত্যিকার অর্থেই জীবন অচল। বন্ধুত্বের সম্পর্ক এমন একটি সম্পর্ক যা একজন মানুষ নিজে থেকে তৈরি করে। রক্তের সম্পর্ক না হলেও মাঝে মাঝে এই বন্ধুত্বের সম্পর্কই রক্তের সম্পর্কের মতো আপন মনে হয়। মানুষ তার নিজের মনের সকল কথা বন্ধুদের সাথে শেয়ার কতে পারেন অকপটে। যা অনেক সময় নিজের পরিবারের কাছেও পারেন না।
একটা নির্দিষ্ট বয়সে এসে বিপরীত লিঙ্গের বন্ধুদের প্রতি আকর্ষণ সকলেরই কমবেশি আগ্রহ জন্মায়। অনেকেই আছেন নিত্য নতুন বন্ধুত্বের সম্পর্কে জড়াতে চান, আর সেখান থেকেই বেছে নিতে চান ভবিষ্যৎ প্রেমিক বা প্রেমিকা। কিন্তু প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের বন্ধু তৈরি করা, বিশেষ করে বিপরীত লিঙ্গের বন্ধু তৈরি করা ঝামেলার বৈকি। কারণ সাধারণ নিয়মে একসাথে খেলাধুলা বা সহপাঠী হিসেবে তো তাদের আর বন্ধুত্ব করার উপায় নেই। তাই আশ্রয় নিতে হয় অন্য কিছুর।
বন্ধু ছাড়া সত্যিকার অর্থেই জীবন অচল। বন্ধুত্বের সম্পর্ক এমন একটি সম্পর্ক যা একজন মানুষ নিজে থেকে তৈরি করে। রক্তের সম্পর্ক না হলেও মাঝে মাঝে এই বন্ধুত্বের সম্পর্কই রক্তের সম্পর্কের মতো আপন মনে হয়। মানুষ তার নিজের মনের সকল কথা বন্ধুদের সাথে শেয়ার কতে পারেন অকপটে। যা অনেক সময় নিজের পরিবারের কাছেও পারেন না।
একটা নির্দিষ্ট বয়সে এসে বিপরীত লিঙ্গের বন্ধুদের প্রতি আকর্ষণ সকলেরই কমবেশি আগ্রহ জন্মায়। অনেকেই আছেন নিত্য নতুন বন্ধুত্বের সম্পর্কে জড়াতে চান, আর সেখান থেকেই বেছে নিতে চান ভবিষ্যৎ প্রেমিক বা প্রেমিকা। কিন্তু প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের বন্ধু তৈরি করা, বিশেষ করে বিপরীত লিঙ্গের বন্ধু তৈরি করা ঝামেলার বৈকি। কারণ সাধারণ নিয়মে একসাথে খেলাধুলা বা সহপাঠী হিসেবে তো তাদের আর বন্ধুত্ব করার উপায় নেই। তাই আশ্রয় নিতে হয় অন্য কিছুর।

No Responses

Write a response