কেনাকাটা করুন নিশ্চিন্তে

চারিদিকে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গড়ে উঠছে অনলাইন শপিং সাইটগুলি।কিন্তু সব সাইটেই কি আপনি অরিজিনাল পন্য পাবেন?কোন শপিংসাইট থেকে আপনি আরিজিনাল প্রোডাক্ট পাবেন সেই সাইটটি আপনাকেই নির্বাচন করতে হবে।

প্রতিদিনই আমরা শুনছি নতুন নতুন অনলাইন শপিং সাইটের নাম।বিভিন্ন ধরনের অনলাইন শপিং সাইট রয়েছে।ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় পন্য কেনা যায় তাই অনলাইন শপিং সাইটগুলি কম সময়েই অনেকটা জায়গা করে নিয়েছে কেনা কাটার বাজারে।কিন্তু কোন শপিং সাইট থেকে পন্য কিনবেন বা কোথায় আপনি অরিজিনাল প্রোডাক্ট পাবেন সেই প্রতিষ্ঠানটি আপনাকেই নির্বাচন করতে হবে।আর অনলাইন শপিং সাইট নির্বাচন করার ক্ষেত্রে বা অনলাইনে প্রোডাক্ট কেনার ক্ষেত্রে কিছু ব্যাপার লক্ষ্য রাখতে হবে।

অনলাইনে প্রোডাক্ট কেনার ক্ষেত্রে,প্রথমেই আপনাকে ওয়েবসাইট পছন্দ করতে হবে কোন সাইট থেকে আপনি প্রোডাক্ট কিনবেন।

কিভাবে বুঝবেন ওয়েবসাইটটি অরিজিনাল-

১।ওয়েবসাইটটি কতদিন হল ই-কমার্স জগতে পদার্পণ করেছে।

২।ওয়েবসাইটের ডেলিভারি এবং ওয়ারেন্টি পদ্ধতি আপনাকে দেখতে হবে।

৩।ওয়েবসাইটের হেড অফিস সম্পর্কে আপনাকে কিছুটা ধারনা রাখতে হবে।

online shop

৪।ওয়েবসাইটটির অবশ্যই কোন ফ্যানপেইজ থাকবে এবং আপনি সেই ফ্যানপেইজ থেকে কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন যা আপনাকে ওয়েবসাইটটি সম্পর্কে ধারনা দিবে।

৫।ওয়েবসাইটে দেখবেন তারা যে প্রোডাক্টগুলি বিক্রয় করে সেই ব্র্যান্ডগুলির কাস্টমার কেয়ার ওয়েবসাইটে দেয়া আছে কিনা।

৬।সবচেয়ে যে বিষয়ের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে তা হচ্চে ওয়েবসাইটটি যে ব্র্যান্ড এর প্রোডাক্ট বিক্রি করছে সেই ব্র্যান্ড কর্তৃক অথরাইজড সেলিং পার্টনার কিনা।

৭।আরেকটি বিষয় কাস্টমারদের ধারনা অনলাইন মানেই বাজারের থেকে কম দামে প্রোডাক্ট বিক্রি করবে। কিন্তু এই ধারনাটি সম্পূর্ণরুপে ভুল।কারন অরিজিনাল প্রোডাক্ট কখনই কম দামে কেনা বা বিক্রি করা সম্ভব না। যদি কম দামে বিক্রি হয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই বুঝে নিতে হবে প্রোডাক্টটি নকল বা কপি।

৮।এমনকি আপনি অনলাইন শপিং সাইটের ডেলিভারি পার্টনার এর দিকে খেয়াল করলেও এর সম্পর্কে কিছুটা ধারনা পাবেন। যেমন- শপিং সাইটটি কোন রেপুটেড কোম্পানির মাধ্যমে প্রোডাক্ট ডেলিভার করছে কিনা।

৯।বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, ই-কমার্স সাইট গুলো মোবাইল ফোন বিক্রি করার প্রতি গুরুত্ব বেশি দিচ্ছে।এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটগুলো বিভিন্ন সময় অফার এবং কম দামে প্রোডাক্ট সেল করছে যা অথোরাইজড কোম্পানির থেকেও কম দামে। এবার আপনারাই চিন্তা করুন কিভাবে তারা কম দামে ফোন বিক্রি করছে। যেখানে আমাদের দেশে বৈধ ভাবে মোবাইল ফোন নিয়ে আসতে বিমান বন্দরে কাস্টম দিতে হয় ২৮% ।আনুসঙ্গিক আরও খরচ মিলে একটি প্রোডাক্ট এর পিছনে অনেক খরচ হয়ে যায়, এখন কথা হল কিছু কিছু শপিং সাইট গুলো কিভাবে কম দামে প্রোডাক্ট সেল করছে।

১০।অন্য দেশের থেকে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের মুল্য বেশি হওয়ার একটাই কারন আমাদের কাস্টম চার্জ অন্যদের তুলনায় দিগুন অথবা তিনগুন। তাহলে এই অবস্থা থেকে কিভাবে একটি প্রোডাক্ট কম দামে অন্যরা সেল করছে। কপি প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রেই শুধু এটা সম্ভব।

১১।আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, মোবাইলটির ব্র্যান্ড ভ্যালু কি, আমাদের দেশের সেলিং এবং প্রাইজ এর নির্ভর করে ব্র্যান্ড ভ্যালু দাঁড়ায় না।

সর্বশেষ একটি কথাই বলা যায়, উপরোক্ত সব গুলি বিষয় লক্ষ্য রেখে অনলাইনে কেনা কাটা করতে পারেন তাহলে আপনাদের নকল প্রোডাক্ট কিনে ঠকতে হবে না। তবে সবচেয়ে বড় কথা হল আমি আবারও বলছি অরিজিনাল প্রোডাক্ট এর প্রাইজ সব সময় বেশি হবে। সব বিষয় খেয়াল রেখে ঠিক সাইট থেকে আপনার পছন্দের ১০০% অরিজিনাল প্রোডাক্টটি ক্রয় করুন।

1

No Responses

Write a response