ওয়ালটনের কয়েকটি সেরা স্মার্টফোন

waltonCover_0
ওয়ালটনের বেশকিছু ভাল মানসম্পন্ন স্মার্টফোন নিয়ে এই পোস্ট টি। যারা নতুন ওয়ালটনের স্মার্টফোন কিনতে চাচ্ছেন সেটগুলোর বিষয়ে তাদের জানা থাকা উচিত।
Primo E2: বাজারে ওয়ালটনের যেসব মানসম্মত স্মার্টফোন রয়েছে এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো Primo E2, মাত্র ৫,৪৯০ টাকা মুল্যের স্মার্টফোনটি হতে পারে যেকোন এন্ট্রি লেভেলের স্মার্টফোন ক্রেতার জন্য আদর্শ পছন্দ। ৫১২ মেগাবাইটের র‍্যাম, ডুয়েলকোর প্রসেসর, ফ্রন্ট ও রিয়ার ক্যামেরা – এককথায় বলতে গেলে এই ফোনটিতে আপনি প্রয়োজনীয় সকল ফিচারই পাবেন। এছাড়া এর ক্যামেরায় রয়েছে এইচডি ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা। সত্যি কথা বলতে, এর থেকে কম দামে প্রিমো ই-২ অপেক্ষা ভালো সেট বাজারে পাওয়া সম্ভব নয়।
E2 700-1-500x500
Primo F2: খুব সম্ভবত ওয়ালটনের সর্বাধিক বিক্রিত স্মার্টফোন হলো Primo F2, এই ফোনটি এতোটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলো যে, এর স্টক শেষ হওয়ার পরেও ক্রেতাদের বিশেষ অনুরোধে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় ধাপে প্রিমো এফ-২ বাজারে এনেছিলো। উল্লেখ্য, ওয়ালটনের কোন স্মার্টফোনের স্টক শেষ হয়ে গেলে সাধারণত দ্বিতীয় ধাপে তা আর বাজারে আনা হয়না। তবে প্রিমো এফ-২ এর ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়েছিলো । মাত্র ৬,৭০০ টাকা মূল্যের স্মার্টফোনটি ছিলো প্রায় সকল ফিচারের দিক থেকেই ক্রেতাদের মনের মতো। এছাড়া এই ফোনের বিল্ড কোয়ালিটিও ছিলো অসাধারণ। অধিকাংশ Primo F2 ব্যবহারকারী প্রায় ৯ মাস ধরে ব্যবহারের পরও এর মান নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলেননি।
F2 700-1-500x500
Primo F3i: যারা মধ্যম বাজেটে প্রায় সকল প্রয়োজনীয় ফিচারসমৃদ্ধ অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনতে চান তাদের জন্য Primo F3i থাকতে পারে পছন্দের স্মার্টফোনের তালিকার উপরের দিকে। মাত্র ৭,৪৯০ টাকা মূল্যের এই ফোনটির জনপ্রিয়তাও ছিলো বেশ আকাশচুম্বী । প্রায় একই রকম বাজেটে হয়তো বাজারে আরও বেশকিছু স্মার্টফোন পাবেন, তবে সত্যি কথা বলতে, সকল দিক বিবেচনায় প্রিমো এফ থ্রি-আই – কে অন্যান্য স্মার্টফোন থেকে এগিয়েই রাখতে হবে ।
F3i 700-2-500x500
Primo GH2: বাজারে থাকা ওয়ালটনের আরেকটি মধ্যম বাজেটের সেরা স্মার্টফোন হলো প্রিমো জিএইচ ২ । মাত্র ৯,২৯০ টাকা মূল্যের ফোনটিতে রয়েছে কোয়াডকোর প্রসেসর, ১ গিগাবাইটের র‍্যাম, ২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা প্রভৃতি। এর থেকে কমমূল্যে বাজারের আর কোন ফোনে কোয়াডকোর প্রসেসর ও ১ গিগাবাইট র‍্যাম পাওয়া যাবেনা।
GH2 700-4-500x500
Primo H3: ওয়ালটনের মধ্যম বাজেটের আরেকটি অনন্য স্মার্টফোন হলো প্রিমো এইচ-৩। ১১,৪৯০ টাকা মূল্যের ফোনটিতে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা, ২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা, ১.৩ গিগাহার্টজের কোয়াডকোর প্রসেসর ও ১ গিগাবাইটের র‍্যাম। এর ব্যাটারী ব্যাকআপও বেশ সন্তোষজনক। এই ফোনটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো একে অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ কিটক্যাটে আপডেট করা যাবে। এছাড়া এর বিশেষ ফিচার হিসেবে রয়েছে স্মার্ট অ্যান্সার, শেক টু চেঞ্জ মিউজিক প্রভৃতি সুবিধা।
H3 700-4-500x500
Primo RX: যারা অপেক্ষাকৃত কমমূল্যে ভালো ক্যামেরাযুক্ত স্মার্টফোন খোঁজেন তাদের জন্য পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকবে ওয়ালটনের প্রিমো আরএক্স। ১৫,৯৯০ টাকা মূল্যের স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা। এছাড়া ১ গিগাবাইটের র‍্যাম, কোয়াডকোর প্রসেসর ও আইপিএস ডিসপ্লে। আর দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারী ব্যাকআপের জন্য তো ২০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারী আছেই ! উল্লেখ্য, এতে কর্নিং গরিলা গ্লাস ৩ ব্যবহার করা হয়েছে।
qGUPXdE
Primo NX: যারা বড় স্ক্রীনের স্মার্টফোন পছন্দ করেন তাদের জন্য ওয়ালটনের একটি সেরা ফোন হলো প্রিমো এনএক্স। ৫.৩ ইঞ্চি স্ক্রীনের এই ফোনে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা ও ৩ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। এছাড়া এতে রয়েছে ওটিজি সুবিধা। ১৭,৯৯০ টাকা মূল্যের ফোনটিতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারী ব্যাকআপ নিশ্চিত করার জন্য রয়েছে জন্য রয়েছে ৩,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারী।
NX-1-500x500
Primo S2: শক্তিশালী কোয়ালকম চিপসেট সমৃদ্ধ প্রিমো এস-২ ওয়ালটনের অন্যতম সেরা ফোন । এতে ১.৪ গিগাহার্টজের কোয়াডকোর প্রসেসরের পাশাপাশি রয়েছে ২ গিগাবাইটের র‍্যাম। এছাড়া ইন্টারনাল স্টোরেজ হিসেবে রয়েছে ১৬ গিগাবাইট জায়গা। উন্নত গ্রাফিক্স ও ভালো গেমিং পারফরম্যান্সের জন্য এতে শক্তিশালী অ্যাড্রেনো ৩০৫ জিপিউ ব্যবহার করা হয়েছে । এতে আইপিএস ২ ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। ১৮,৯৯০ টাকা মূল্যের ফোনটিতে রয়েছে ২,৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারী।
S2 700-1-500x500
এই ফোনের ডিসপ্লের নিরাপত্তার জন্য এতে তৃতীয় প্রজন্মের গরিলা গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহারকারী যেনো ক্যামেরা পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট থাকেন সেজন্য এতে ১৩ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরার পাশাপাশি রয়েছে ৫ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। ভালো অডিও পারফরম্যান্স নিশ্চিতকরণের জন্য এতে ইয়ায়ামাহা অডিও চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে।
Primo ZX: ওয়ালটনের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন প্রিমো জেডএক্স সম্পর্কে নতুন করে কিছুই বলার নেই। ওয়ালটনের এযাবৎ কালের সেরা ফোন হলো প্রিমো জেডএক্স। মজার বিষয় হলো এই ফোনটির অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড ৪.২.২ জেলিবিন ব্যবহার করা হলেও এতে কিন্তু আপনি স্টক অ্যান্ড্রয়েড ৪.২.২ জেলিবিনের স্বাদ পাবেননা ! কেননা, এতে অ্যামিগো ২.০ নামের এক বিশেষ ধরণের ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করা হয়েছে। বেশ হালকা গড়নের ডিজাইন সংবলিত প্রিমো জেডএক্স প্রথম দেখাতেই ব্যবহারকারীদের নজর কাড়তে সক্ষম।
1656322_683014285096049_573545443_n
এই ফোনের রিয়ার ক্যামেরা হলো ১৬ মেগাপিক্সেল এবং ফ্রন্ট ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেল। ক্যামেরায় থাকছে অটো ফোকাস,এলইডি ফ্ল্যাশ, জিও-ট্যাগিং, জেশ্চার শট প্রভৃতি সুবিধা । প্রিমো জেডএক্স এর ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত ধরণের প্রযুক্তি যা ছবির ব্রাইটনেস বাড়িয়ে তুলবে ৫০-৬০% পর্যন্ত, ফলে প্রিমো জেডএক্স এর ক্যামেরা দিয়ে আপনি অন্ধকারেও বেশ ভালো মানের ছবি তুলতে পারবেন । উল্লেখ্য, প্রিমো জেডএক্স এর জিপিউ হিসেবে অ্যাড্রেনো ৩৩০ ব্যবহার করা হয়েছে । শক্তিশালী অ্যাড্রেনো ৩৩০ জিপিউ ব্যবহারের ফলে আপনি বেশ স্মুথলি বিভিন্ন এইচডি গেম খেলতে পারবেন।
walton-primo-zx
এছাড়াও প্রিমো X2 এবং X2 Mini ব্যবহারকারী মহলে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর আগের পোস্টটি ছিলো ওয়ালটনের নির্দিষ্ট কিছু মডেলের স্পেসিফিক কিছু ত্রুটি নিয়ে। অনেকেই ভেবেছেন, আমি হয়তো অন্য কোন কোম্পানীর পক্ষপাতিত্ব করেছি। আসলে তা নয়, ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতার আলোকেই ঐ পোস্টটি লেখা হয়েছে। তবে ওয়ালটন এর সব স্মার্টফোনই যে ত্রুটিপূর্ণ তা কিন্তু বলা হয়নি। ওয়ালটন বাংলাদেশী ব্র্যান্ড এবং তা নিয়ে আমরা সবাই গর্বিত। উপরে উল্লেখিত স্মার্টফোনসমূহ কনফিগারেশন, পারফরম্যান্স ও মূল্য – সবদিক মিলিয়ে বাজারে থাকা ওয়ালটনের স্মার্টফোনসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ক্রেতারা চান স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোন, এর মানে এই নয় যে মানহীন স্মার্টফোন এনে বাজার ভরিয়ে ফেলতে হবে। সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলে মেনে নেওয়ার মানসিকতা আমাদের সকলেরই থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। আর হ্যাঁ, ওয়ালটনের কিছু মডেলের স্মার্টফোনকে খারাপ বলার অর্থ পুরো ওয়ালটন ব্র্যান্ডকে খারাপ বলা নয়।
ওয়ালটনের বেশকিছু মডেলের স্মার্টফোন রয়েছে যেগুলো প্রকৃত অর্থেই ভালো।
যাই হোক, ঘন ঘন একের পর এক স্মার্টফোন বাজারে না এনে একটি মডেলের স্মার্টফোন বাজারে আনার পর খানিকটা বিরতি দিয়ে অন্য আরেকটি মডেলের মানসম্পন্ন স্মার্টফোন বাজারে আনবে ওয়ালটন – এমনটাই প্রত্যাশা।

সোর্সঃ ইন্টারনেট

1

No Responses

Write a response