এন্ডয়েড এর SMS ভাইরাস ঠেকাবে নতুন এপস।

বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।
th (2)
অ্যান্ড্রয়েডচালিত মোবাইল ফোনে এমএমএস হিসেবেও ভাইরাস আসতে পারে যা ফোনে থাকা তথ্য চুরি করতে সক্ষম। গবেষকেরা বলছেন ‘স্টেজফ্রাইট’ নামের অ্যান্ড্রয়েডের একটি নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে ভাইরাস পাঠাতে পারে হ্যাকাররা। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে স্টেজফ্রাইট আক্রমণ করেছে কি না তা জানার জন্য ‘স্টেজফ্রাইট ডিটেক্টর অ্যাপ’ উন্মুক্ত করেছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিমপেরিয়াম।

এর আগে, গত জুলাই মাসে বিশ্বের জনপ্রিয় মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েডের একটি নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিমপেরিয়ামের গবেষকেরা। তাঁদের দাবি, অ্যান্ড্রয়েডের এই নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে মাত্র একটি মেসেজেই অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে হ্যাকাররা।

জিমপেরিয়াম মোবাইল সিকিউরিটির এক ব্লগ টিউনে বলা হয়েছে, ‘হ্যাকারদের শুধু অ্যান্ড্রয়েড ফোন হ্যাক করার জন্য মোবাইল নম্বর জানা থাকলেই চলবে। ওই নম্বরে দূরে বসেই এমএমএস বা টেক্সট মেসেজ আকারে একটি বিশেষ কোড লিখে মোবাইলে পাঠিয়ে দেবে তারা। বিশেষভাবে লেখা কোডসমেত বার্তা মোবাইলে পাঠাতে সফল হলে ব্যবহারকারী সে বার্তা দেখার আগেই তা মুছে যাবে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী শুধু নোটিফিকেশন দেখতে পাবেন।

জিমপেরিয়ামের গবেষক জসুয়া ড্রেক দাবি করেছেন, স্টেজফ্রাইট নামের অ্যান্ড্রয়েড কোড এই সমস্যার জন্য দায়ী। এই কোড স্বয়ংক্রিয়ভাবে টেক্সট মেসেজের সঙ্গে যুক্ত ভিডিও প্রিলোড করে। এতে হ্যাকাররা ক্ষতিকর ভিডিও কোডযুক্ত ফাইল যুক্ত করার সুযোগ পেয়ে থাকে। যদি ব্যবহারকারী এ ধরনের কোডযুক্ত মেসেজ কখনো নাও পড়েন তবুও তা স্মার্টফোনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যে কেউই এই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মোবাইল নিরাপত্তা পণ্য নির্মাতা জিমপেরিয়ামের দাবি, এখন পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েডের যতগুলো নিরাপত্তা ত্রুটির খোঁজ পাওয়া গেছে তার মধ্যে স্টেজফ্রাইট সবচেয়ে বাজে। এর কারণ হচ্ছে, এতে ব্যবহারকারীর কিছুই করার থাকে না।
মোবাইল ফোন হ্যাক করে ব্যবহারকারীর অজান্তেই মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা। শতকরা ৯৫ শতাংশ বা ৯৫ কোটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এই বিপদের ঝুঁকির মুখে আছেন বলেই জিমপেরিয়াম দাবি করেছে।
জিমপেরিয়ামের গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, অ্যান্ড্রয়েডের নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করার পর তাঁরা গুগলকে জানিয়েছেন এবং নিরাপত্তা প্যাঁচ তৈরি করে দিয়েছেন। গুগলও এ ত্রুটির কথা জানতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।

এদিকে, গুগল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে— তারা নেক্সাস ডিভাইসগুলোর জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। তবে নেক্সাসের বাইরে গ্যালাক্সি এস ৬ এর স্মার্টফোন এখনো নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থেকে গেছে।
এ বিষয়ে গবেষকেদের পরামর্শ হচ্ছে— অপরিচিত কারও কাছ থেকে ভিডিও এমএমএস পেলে তা খুলবেন না।

স্টেজফ্রাইট অ্যাপটি ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে আক্রমণের আশঙ্কার কথা জানা গেলেও এর সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। এখন পর্যন্ত ঠিক কতজন এ ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সে তথ্য অবশ্য প্রকাশ করেনি জিমপেরিয়াম। তবে, জিমপেরিয়াম দাবি করেছে, সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি মোবাইল ক্যারিয়ার ও স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে তারা।

♣♣♣♣♣♣♣^^^^♣♣♣♣♣♣♣♣^^^♣♣♣♣♣♣♣

No Responses

Write a response