এনার্জি ড্রিংকস এর কুফল

সম্প্রতি ফ্রান্সে ১৮ বছর বয়সী এক কিশোর
বাস্কেটবল খেলার পর ৪ ক্যান রেড বুল
(এনার্জি ড্রিংকস) খেয়ে মৃত্যুর
কোলে ঢলে পড়লে ফ্রান্স সরকার সেদেশে রেড
বুলকে নিষিদ্ধ করে। ময়নাতদন্ত
করে জানা যায়, কিশোরটির মৃত্যুর কারণ হচ্ছে উচ্চরক্তচাপের
সঙ্গে এনার্জি ড্রিংকসের উচ্চমাত্রার
ক্যাফেইন মিশে ‘গাডেন এডাল্ট ডেড
সিনড্রোম’ থেকে মৃত্যু হয়েছে। তাই
জানতে হবে কী আছে এনার্জি ড্রিংকসে? একজন
পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দেহে ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন যথেষ্ট। একজন নারীর জন্য এ
মাত্রা হচ্ছে ৩০০ মিলিগ্রাম। অথচ
একটি এনার্জি ড্রিংকের ক্যান খেলেই
আপনি পাচ্ছেন ৩৬০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন।
এরূপ উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন মৃগীরোগ
সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ক্রমাগত উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন নিতে থাকলে নার্ভাসনেস,
বদমেজাজ, পেশির টান, অনিদ্রা, মাথাব্যথা,
শ্বাসকষ্ট এমনকি সন্তান
ধারণে জটিলতা পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। অথচ টেলিভিশনের পর্দায় প্রিয় তারকাদের
দিয়ে তৈরি এনার্জি এবং সফট ড্রিংকের
আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন
দেখে দর্শকরা মনে করবে, এটি খেলে অনেক
শক্তি সঞ্চয় হবে। অথচ এটি সম্পূর্ণ ভুল।
সফট ড্রিংক আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কেন ক্ষতিকর? তা একটু
দেখলে বোঝা যাবে। ১. সফট ড্রিংকসের ঝাঁঝালো স্বাদ বাড়ানোর
জন্য ব্যবহার করা হয় ফসফরিক এসিড। আর এ
এসিড এতই ক্ষতিকর এবং শক্তিশালী যে একটু
এসিডের মধ্যে একটা নখ
ভিজিয়ে রাখা হলে একটা সময়ের পর তা খুজেঁই
পাওয়া যাবে না। সেই এসিড আমরা খাচ্ছি সফট ড্রিংকসের মাধ্যমে। এর
আরেকটি কাজ হচ্ছে হাড়ের ক্যালসিয়াম ক্ষয়
করা।
২. আমরা অনেকেই ফাস্টফুড বা রিচফুড খাওয়ার
পর সফট ড্রিংক খাই। ভাবি পেট শান্তি পেল
বা খাবার দ্রুত হজম হবে। এটিও একটি মস্ত বড় ভুল। আমাদের পাকস্থলী সাধারণত ৩৭
ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় খাবার হজম
করে থাকে। আর আমরা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়
রাখা সফট ড্রিংক বা এনার্জি ড্রিংক খাই।
অতএব, যা সংবেদনশীল পাকস্থলীর ক্ষতিই করে।
৩. পানি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বরফ
হয়ে যাবে। কিন্তু সফট ড্রিংক তা হবে না।
কারণ সফট ড্রিংকে ব্যবহার করা ইথিলিন
গ্লাইকোল। যা আর্সেনিকের মতোই বিষাক্ত।
৪. সফট ড্রিংকের কিডনির ওপর রয়েছে ক্ষতিকর প্রভাব। কেউ যদি এক ঘন্টায়
৪ লিটার কোক বা স্প্রাইট পান করেন,
তাহলে কিডনি ফেইলির হওয়ার সম্ভাবনা ১০০
ভাগ। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন- যারা প্রচুর
পরিমাণে সফট ড্রিংক পান করেন, তাদের
কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
৫. ধরুন, আপনি একটি জাদু দেখাতে চান।
আপনার সাদা দাঁত হলুদ করে ফেলবেন। তেমন
কঠিন কাজ নয়। একঢোক সফট ড্রিংক
মুখে নিয়ে একঘন্টা রেখে দিন। দাঁত হলুদ
হয়ে যাবে। কারণ সফট ড্রিংক দাতেঁর এনামেল ক্ষয় করে।
৬. ২০০৪ সাল থেকে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও
ছত্তিশগড়
রাজ্যে কৃষকরা কোকাকোলাকে কীটনাশক
হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে।
এতে তারা ভালো ফলাফলও পাচ্ছে। তাই বোঝা যাচ্ছে সফট ড্রিংক কীটনাশকের মতোই
ক্ষতিকর।
৭. সফট ড্রিংকের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে,
এটি আমাদের নাক, গলা এবং শ্বাসতন্ত্রের
শুরুর দিকের
অংশে থাকা সিলিয়াগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ এ সিলিয়াগুলো শ্বাস-প্রশ্বাসের
সঙ্গে যে ধূলিকণা, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস
গ্রহণ করি, তা শরীরে ঢুকতে বাধা দেয়। সফট
ড্রিংক খেলে এই সিলিয়াগুলো নিস্ক্রিয়
হয়ে পড়ে। শুরু হয় টনসিলাইটিস, ব্রংকাইটিস,
নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসজনিত রোগ।

No Responses

Write a response