একদিন উসমান

”উসমান”জীবনে ওপরে ওঠার সিড়ি চড়তে চড়তে আমরা মনে খুব ছোট ছোট কিছু চাওয়া জমা করি প্রতিনিয়ত। প্রতিদিনের যান্ত্রিক জীবনের যাতাকলে আমরা মনকে সান্ত্বনা দেই এই ভেবে যে, একদিন এই চাওয়াগুলো পূর্ণ করবো। হয়তো সে চাওয়ায় থাকে- একদিন সারাদিন হাঁটবো অথবা একদিন আবার সেই ছাত্রজীবনের মতো ফুটপাতের টঙ দোকানে চায়ের সাথে সিগারেটের সখ্য গড়ে সামনে ছুটে যাওয়া গাড়িগুলোকে, মানুষগুলোকে আলস্যে মেতে দেখবো আর ভাববো- এরা আসলে যায় কোথায়? এই যে মানুষ ছুটছে- আসলে কীসের জন্যে? কিংবা ভাবি- কৈশরের মতো এক বৃষ্টিস্নাত দিনে ফুটবল নিয়ে নেমে যাবো মাঠে।

হয়তো চাওয়াগুলোর মাঝে থাকে- একদিন আবারো রেললাইনের ওপর হাঁটবো, অথবা রাজধানী থেকে ছেড়ে যাওয়া কোনো বাস বা ট্রেনে চেপে বসবো তার শেষ ঠিকানার উদ্দেশ্যে। ফেসবুক বন্ধ, ফোন বন্ধ, ইমেইলগুলো সব পড়ে রইবে আনরিড। একদম একা, শুধু নিজের সাথে কাটবে সময় কোনো একদিন!

কখনো আবার বাবা-মা’র কথা মনে পড়ে যায়। ভাবি- বাবাকে জড়িয়ে ধরে তার পাশে নিশ্চিন্তে ঘুমাবো আবার কোনো একদিন নতুবা মা’র কোলে মাথা রেখে তার জমানো সব গল্প শুনবো। আর যাদের বাবামা বেঁচে নেই, হয়তো নিজের সন্তানকেই তাদের স্থানে বসিয়ে জমা থাকা ভালোবাসা তাকে/তাদেরকেই দিতে চাই কোনো একদিন।

হয়তো কাজের ভিড়ে কখনো মনে পড়ে যায় প্রিয়তমার মুখখানা। মায়া লাগে খুব। হয়তো নিজেকে সান্ত্বনা দেই- প্রিয়ার হাতে হাত রেখে কোনো এক বৃষ্টিভেজা দিনে হারাবো অজানার পথে। অথবা অযথা মেতে উঠবো তার সাথে খুনসুঁটিতে, কিংবা ইচ্ছে করেই খুলে দেবো তার খোঁপা আদুরে বিরক্ত চেহারাখানা আবার দেখতে!

কখনো কখনো মনে পড়ে যায় বন্ধুদের কথা। সাথে সাথে প্রতীজ্ঞা- কোনো এক সন্ধ্যায় পরিচিত কোনো রাস্তার মোড়ে অথবা কোনো চত্বরে, সন্ধ্যামাখা কোনো মাঠের মাঝে মেতে উঠবো আড্ডায়। হয়তো কোনো একদিনের তালিকায় জমা পড়ে সব বন্ধুদের এক করে আবারো জ্বোনাক জ্বলা রাতে পিকনিক জমানোর সুখসংকল্প।

এভাবে কত একদিন যে জমে যায়, তার হিসাব করতেও হয়তো একদিন লেগে যাবে। সব জমা পড়ে একদিনের অপক্ষোয়। সেই একদিন, যে একদিন আসার কথা কিন্তু আসবে কি না জানা নেই!

অথচ আমরা চাইলেই সেই একদিনটা হতে পারে আজই, এখনই। আমরা চাইলেই চাওয়াগুলোকে ধারণ করতে করতে তৃষ্ণার্ত ক্লান্ত মনটাকে একটু প্রশান্তি দিতে পারি। আমরা চাইলেই প্রিয়াকে বলতে পারি- চল না একটু ঘুরে আসি! আমরা চাইলেই বন্ধুকে একটু ফোন করে বলতে পারি- চল্ না একটু আড্ডা দেই। বাবামা বা সন্তানকে বলতে পারি- আমার আজকের পুরোটা দিন তোমাদের। হয়তো নিজেকে বলতে পারি- চল্ না মন, একটু উদাস হই!

জীবন তো একটাই। এই জীবনে কিছু সময় না হয় ব্যয় হোক এই একদিনের অ্যাকাউন্টে আজকেই। মৃত্যুকালে যেন আফসোস না হয়, মনের খাতায় জমা করে রাখা সেই একদিনটা আর এলো না!

সোর্সঃ ইন্টারনেট

No Responses

Write a response