ই-ভিসা চালু করতে টাস্কফোর্স হচ্ছে

e-visa

২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী তিন বছরে এ উপলক্ষে ১০ লাখ বিদেশি পর্যটককে আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিদেশি পর্যটক টানতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ না করলে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলে মনে করছেন পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা। তাই বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে ভিসা সহজিকরণ ও ই-ভিসা (ইলেকট্রনিক ভিসা) বাস্তবায়নসহ নানা সুবিধা বাড়াতে আন্তমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করবে সরকার।

রবিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল মিলনায়তনে অন-অ্যারাইভাল ভিসাবিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সঞ্চালনা করেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ভ্রমণে বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের আগ্রহ থাকলেও ভিসা জটিলতাসহ নানা সমস্যার কারণে বাংলাদেশে আসতে অনীহা প্রকাশ করে তারা। পর্যটক আকর্ষণে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, বাহরাইন ও লাওস ই-ভিসা চালু করেছে। তাই ২০১৬ সালের পর্যটন বর্ষে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক টানতে হলে অবশ্যই দ্রুত ই-ভিসা চালু করতে হবে। এ ছাড়া পর্যটন, ভিসা এবং ভিসা ফি সম্পর্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেওয়া আছে। এতে পর্যটকদের বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়।

এ ক্ষেত্রে সমতা আনতে হবে। এ সমস্যা সমাধানে সব দূতাবাসে একই ধরনের তথ্যসহ বাংলাদেশ ভ্রমণের বিস্তারিত তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। এদিকে ভিসা সহজিকরণের ফলে পর্যটকদের সঙ্গে যাতে বাংলাদেশ সন্ত্রাসীদের ‘জায়গা’ না হয়ে ওঠে সে জন্য কঠোর নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা। তাঁরা বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল দেশ। সন্ত্রাসবাদ দমনে আমাদের ভূমিকা অগ্রগামী। তাই ই-ভিসা কিংবা অন-অ্যারাইভাল ভিসার মাধ্যমে যাতে সেই জায়গা নষ্ট না হয় সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।’

ই-ভিসা চালু হলে একজন বিদেশি পর্যটক অনলাইনে প্রয়োজনীয় ফি দিয়ে তার ছবি ও পাসপোর্ট আপলোড করে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবে। আবেদনের ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার ই-মেইলে পৌঁছে যাবে ‘ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন’ (ইটিএ) কিংবা ই-ভিসা।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনেক দিন ধরেই বিদেশিদের জন্য ভিসার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানাচ্ছেন। সর্বশেষ গত মার্চ মাসে জাতীয় পর্যটন পরিষদের তৃতীয় সভায় পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে ই-ভিসা, অন-অ্যারাইভাল ভিসা সহজিকরণ এবং মাল্টিপল ভিসার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন। ওই সভায় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

দৈনিক কালের কণ্ঠের সৌজন্যে।

No Responses

Write a response