আজ চৈত্র সংক্রান্তি : বাংলা ব্লগের পক্ষ থেকে স্বাগতম পহেলা বৈশাখকে

আজ চৈত্র সংক্রান্তি : স্বাগত পহেলা বৈশাখ

 

পহেলা বৈশাখ

রোববার চৈত্র সংক্রান্তি। একটি বছরের গ্লানি মুছে দেয়ার মাধ্যমে বিদায় নিলো ১৪২০ বঙ্গাব্দ। রাত পোহালেই আর একটি নতুন বাংলা সালের শুরু। শুভ নববর্ষ। স্বাগত ১৪২১। ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’- সকল না পাওয়ার বেদনাকে ধুয়ে মুছে, আকাশ-বাতাস ও প্রকৃতিকে অগ্নিস্নানে সূচি করে তুলতেই আবার এসেছে পহেলা বৈশাখ। নতুন বছরের প্রথম দিনটি চিরায়ত আনন্দ-উদ্দীপনা আর বর্ণাঢ্য উৎসবেরর মধ্য দিয়ে হাজির হবে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে। সেই নব প্রভাতে বাঙালি জাতির কায়মনো প্রার্থনা- যা কিছু ক্লেদ, গ্লানি, যা কিছু জীর্ণ-শীর্ণ-বিদীর্ণ, যা কিছু পুরাতন জরাগ্রস্থ-সব বৈশাখের রুদ্র দহনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাক। এদিকে নববর্ষের মূল অনুষ্ঠানস্থল রমনা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

সোমবার নতুন স্বপ্ন, উদ্যম আর প্রত্যাশার আবির ছড়ানো বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় উৎসব পহেলা বৈশাখ। গ্রীষ্মের দাবদাহ এড়িয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাঠ-ঘাট, পথে-প্রান্তরে ঢল নামবে লাখো উচ্ছসিত জনতার। দিবসটিকে কেন্দ্র করে নববর্ষকে স্বাগত এবং দেশবাসিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অস্থায়ি রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এডভোকেট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জাতির উদ্দেশ্যে বাণী দিয়েছেন।

আমাদের জাতিসত্তার মৌলিক ও অনন্য পরিচয় এবং বাঙালির প্রভূত রূপায়ণ ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অমোঘ উপাদান এই পয়লা বৈশাখ। দেশের মূল স্তম্ভ কৃষক সমাজ আজও বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করে, ফসল রোপন ও ঘরে তোলার পালাও চলে সেই পঞ্জিকা অনুসারে। ফসলি সাল গণনার জন্য একদা যে বাংলা সনের উৎপত্তি তা সুদীর্ঘকাল ধরে শহর-বন্দর, গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এদেশের মানুষের হৃদয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি হিসেবে শক্ত আসন গেড়ে বসেছে। বাংলা নববর্ষে ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’ রীতি এখনও এদেশের নিজস্ব সংস্কৃতির আমেজ নিয়ে টিকে রয়েছে। খেরোখাতায় পুরাতন হিসেব মিটিয়ে নতুন বছরে নতুন করে সবকিছু শুরু করার জন্য এদিন ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্টদের দাওয়াত দিয়ে এখনও মিষ্টিমুখ করান।

কাল সরকারি ছুটির দিন। উৎসবে মেতে ওঠার উপসর্গ খুঁজে ফেরা বাঙালিদের জন্য নারী-পুরুষ-শিশু,ধর্ম,বর্ণ,গোত্র নির্বিশেষে জাতীয়ভাবে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠার দিন। শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা এবং রং-বেরঙের নারী-পুরুষের পোষাক এবং সজ্জায় বর্ণিল হয়ে উঠবে রাজধানীসহ গোটা দেশ। প্রাণ চাঞ্চল্যে মুখরিত হয়ে রাজধানী ঢাকার দৃশ্যপটও বদলে যাবে । কাকডাকা ভোর থেকেই নগরীর পথে পথে বাঙালি সংস্কৃতি লালনকারী আনন্দপিপাসু নগরবাসীর ঢল নামবে । পরিধেয় বস্ত্রেও থাকবে বৈশাখী উৎসবের লাল-সাদার বাহারি নক্সার পোশাক।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রমনা বটমূলসহ পুরো পার্ক ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কাউকেই পার্কের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। রোববার সকাল থেকেই পার্কে মানুষ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনে পুলিশ। পার্কে প্রবেশের প্রতিটি ফটকে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে। এ ছাড়া পার্কের ভেতরে ইউনিফর্ম পরিহিত ও সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। সকাল সাড়ে ১১টায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রমানা বটমূলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরির্দশন করেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

রমনার বটমূলের মঞ্চ ঘিরে সোয়াট, র‌্যাব ও পুলিশের তিনটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। নৌবাহিনীর ডুবুরি দল, র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড ও পুলিশের বিশেষ বোমা ডিস্পোজাল টিম রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে পুলিশ কন্ট্রোল রুম। পার্কে প্রবেশের চারটি প্রবেশ পথ রয়েছে। এগুলো হল- অরুণোদয় (সুগন্ধা’র বিপরীত), রমনা রেস্তোরা, আস্তাচল (শিশুপার্ক) ও নতুন গেইট (বৈশাখী অস্তাচলের মাঝে)।

বের হওয়ার জন্য দুটি গেইট রয়েছে। এগুলো হল- উত্তরায়ণ (থাই ক্রসিং) ও বৈশাখী গেইট। এছাড়ও প্রবেশ ও বের হওয়া যাবে শ্যামলীমা (কাকরাইল মসজিদ) ও স্টার গেইট (মৎস্য ভবন) দিয়ে। প্রতিটি গেইটে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

No Responses

Write a response