অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা প্রতারিত হচ্ছেন?

image

শুধু নিজেদের নেক্সাস ফোনগুলোকেই
বেশি নিরাপদ করছে গুগল আর স্যামসাং
গ্যালাক্সি, এলজি জি৪, অ্যালকাটেল
ওয়ানটাচের মতো অন্য নির্মাতাদের
তৈরি অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোকে
হ্যাকিংয়ের ঝুঁকিতে রেখে দিচ্ছে। কিন্তু
কেন এমন করছে গুগল? এ সম্প্রতি
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে
সেই তথ্য।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
একদিকে গুগল আর অন্যদিকে স্যামসাং
বা অন্য ফোন নির্মাতা ও মোবাইল
ফোন ক্যারিয়ারদের কথা ভেবে দেখলেই
এর উত্তর মিলে যাবে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
গুগল যখন কোনো নতুন ফিচার বা
নিরাপত্তা প্যাঁচ উন্মুক্ত করে তখন
মোবাইল ফোন নির্মাতা ও
ক্যারিয়াররা নির্ধারণ করে কখন সেই
প্যাঁচ বা ফিচারটি ফোনে যুক্ত হবে সে
বিষয়টি। এই বিষয়টিকে একেবারেই মেনে
নিতে পারেন না স্মার্টফোনের
ক্রেতারা।

একবার ভেবে দেখুন, গত বছরের
নভেম্বর মাসে গুগল অ্যান্ড্রয়েডের
ললিপপ সংস্করণটি উন্মুক্ত করেছে
কিন্তু এখন পর্যন্ত অনেক
স্মার্টফোনেই এই হালনাগাদ আসেনি।
এর জন্য দায়ী কে? এর জন্য দায়ী
মোবাইল ফোন নির্মাতারা। এ ধরনের
সফটওয়্যার হালনাগাদ আসার পরপরই
দ্রুত তা পেয়ে যান গুগলের নেক্সাস
ফোন ব্যবহারকারীরা। বাদবাকি
সবাইকে অপেক্ষায় থাকতে হয়।

কিন্তু এই অপেক্ষার পালা আরও
দীর্ঘায়িত ও যন্ত্রণাদায়ক করতে যাচ্ছে
গুগল। সম্প্রতি গুগল কর্তৃপক্ষ নেক্সাস
ডিভাইসে অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যারে
কোনো সফটওয়্যার ত্রুটি আছে কি না
তা খুঁজে দিলে গবেষকেদের পুরস্কার
দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে গুগল। এতে
গুগলের সফটওয়্যারে কোনো হালনাগাদ
এলেই সবার আগে তা পাচ্ছে নেক্সাস
ফোন ও ট্যাব ব্যবহারকারীরা। এর
অর্থ হচ্ছে প্রতিটি হালনাগাদের পর
হ্যাকারদের কাছে নেক্সাস বাদে অন্যান্য
ব্র্যান্ডের অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলো
হ্যাক করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

গুগল কী অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের
সঙ্গে প্রতারণা করছে? সফটওয়্যার
ত্রুটি খুঁজে বের করে দিতে হ্যাকারদের
অর্থ দেওয়া সেই ত্রুটি প্রকাশ্যে আনা
নতুন কোনো ঘটনা নয়। এটাকে বলে
গুগলের ‘বাগ বাউন্টি’ প্রোগ্রাম।
ফেসবুক, মাইক্রোসফটের মতো বড়
প্রতিষ্ঠানগুলোরও এ ধরনের কর্মসূচি
রয়েছে। ত্রুটি খুঁজে দিলেই কেন অর্থ
দিতে হবে হ্যাকারদের? কারণ হচ্ছে, এ
ধরনের ত্রুটির খোঁজ পাওয়াটা মূল্যবান
ধনরত্নের খোঁজ পাওয়ার মতো।

মূল্যবান এই আবিষ্কার কালোবাজারে
বিক্রি করে অর্থ আয় করতে পারেন
হ্যাকাররা। এ ধরনের কোনো ত্রুটি
কালোবাজারে ২০ হাজার মার্কিন ডলার
পর্যন্ত দামে বিক্রি করা যায়।
গোয়েন্দা, সাইবার দুর্বৃত্তরা এ
ধরনের সফটওয়্যার ত্রুটি ধরে
কম্পিউটার বা ফোন হ্যাক করে
গোয়েন্দাগিরি বা মূল্যবান তথ্য
হাতিয়ে নিতে পারে। এ পদ্ধতিতেই
সাইবার মাফিয়ারা ব্যাংক থেকে অর্থ
লুট করে নিতে পারে।

ছোট আকারের বাগ সফটওয়্যার ত্রুটি
খুঁজে দেওয়ার জন্য গুগল ৫০০ মার্কিন
ডলার দেয়। ত্রুটি বড় হলে তার জন্য
দুই হাজার ডলার দেয়। এই ত্রুটি যদি
সমাধান করে দিতে পারেন গবেষক তবে
তার জন্য আট হাজার মার্কিন ডলার
দিতে প্রস্তুত থাকে গুগল।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে
করেন গুগলের এই স্বচ্ছতার কারণে
অ্যান্ড্রয়েড ফোন নিরাপদ হতে পারে।
কিন্তু এতে দেখা যাচ্ছে, অ্যান্ড্রয়েড
ব্যবহারকারীদের দুটি আলাদা শ্রেণি
তৈরি করছে গুগল। এর মধ্যে প্রথম
সারিতে রয়েছে নেক্সাস ব্যবহারকারীরা
আর অন্য সারিতে রয়েছে অন্যান্য
ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন।

৯৬ শতাংশ অ্যান্ড্রয়েড
ব্যবহারকারীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে কি না
তা নিয়ে গুগল কর্তৃপক্ষকে সিএনএনের
পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এক
বিবৃতিতে গুগল কর্তৃপক্ষ সিএনএনকে
জানিয়েছে, ‘আমরা আমাদের
অংশীদারদের কাছে যতটা দ্রুত সম্ভব
প্যাঁচ দিতে চেষ্টা করব। সময়টা এক
মাসের বেশি হবে না। এরপর আমরা
গবেষকেদের কাছে সফটওয়্যার ত্রুটি নিয়ে
যাব।’

গুগল কেন এই পথে যাচ্ছে? গবেষকেরা
বলছেন, স্যামসাং, এলজির ও
সেলফোন ক্যারিয়ারগুলো যাতে দ্রুত
সফটওয়্যার হালনাগাদ গ্রহণ করে তাতে
জোর দেওয়ার জন্যই গুগল এই পথে
হাঁটছে।
গুগলের বাগ বাউন্টি প্রোগ্রাম নিয়ে
কাজ করা বাগ ক্রাউডসের জ্যেষ্ঠ
পরিচালক কিম্বার্লি প্রাইস বলেন,
‘হার্ডওয়্যার নির্মাতাদের নিরাপত্তা
হালনাগাদ দ্রুত গ্রহণ করতে হবে আর
তা না হলে নিরাপত্তা সচেতন ক্রেতা
হারাবে তারা। এটা হার্ডওয়্যার
নির্মাতাদের ওপর গুগলের এক ধরনের
চাপ।’

গুগলের এই চাপ সবচেয়ে বেশি পড়বে
স্যামসাংয়ের ওপর। কারণ সফটওয়্যার
ট্র্যাকার অ্যাপব্রিনের তথ্য অনুযায়ী,
বিশ্বে যত অ্যান্ড্রয়েড ফোন তৈরি
হয় তার অর্ধেকর বেশি তৈরি করে
দক্ষিণ কোরিয়ার এই প্রতিষ্ঠানটি।

No Responses

Write a response